রেয়াল মাদ্রিদের মাঠে নিজেকে ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ মনে হয় বেলিংহ্যামের

মাদ্রিদের ৬ মাস কাটিয়ে এই শহর, এই ক্লাব, নিজেদের মাঠ, সবকিছুর প্রেমে মজে গেছেন ইংলিশ এই তারকা।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Feb 2024, 06:25 AM
Updated : 2 Feb 2024, 06:25 AM

প্রাচীন রোমের সেই কলোসিয়াম এখন আর নেই। জীবনপণ যুদ্ধ জয়ের অনন্য উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া পাওয়ার সুযোগও নেই। তবে সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে যেন সেই স্বাদই পান জুড বেলিংহ্যাম। রেয়াল মাদ্রিদের মাঠে নামলে নিজেকে তার কলোসিয়ামে নামা গ্ল্যাডিয়েটরদের মতোই মনে হয়। গত ৬ মাসে এই ক্লাব, এই মাঠ আর মাদ্রিদ শহরের প্রেমে বুঁদ হয়ে গেছেন রেয়ালের তরুণ এই ইংলিশ তারকা। 

‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’- রেয়াল মাদ্রিদে বেলিংহ্যামের গল্পটা এমনই। চলতি মৌসুমেই ইউরোপের সফলতম ক্লাবে পা রাখার পর শুরু থেকেই তিনি মাঠ রাঙিয়েছেন তার পারফরম্যান্সে। দ্রুতই হয়ে উঠেছেন ক্লাবের ভরসা। সমর্থকদের কাছে হয়ে উঠেছেন দারুণ প্রিয়। তার নিজেরও উপলব্ধি হয়েছে অনেক কিছু।

রেয়াল মাদ্রিদ নিয়ে এমনিতে অনেক ধারণা তার ছিলই। কিন্তু এখানে আসার পর, সান্তিয়াগো বের্নাবাউতে খেলার পর তিনি আরও ভালো করে বুঝতে পেরেছেন এই ক্লাবের ওজন। ক্লাবে ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পর রেয়াল মাদ্রিদ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেলিংহ্যাম শুনিয়েছেন তার অনুভূতি।

“রেয়াল মাদ্রিদ যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব, তা তো সবসময়ই জানা ছিল। তবে এখানে এসে এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরই সত্যিকার অর্থে বোঝা যায়, এটা কতটা আলাদা। বিশেষ করে বের্নাবেউতে, নতুন করে সংস্কারের পর এটা যেমন রূপ নিয়েছে এবং সবকিছু যেমন এখানে, এটা অবিশ্বাস্য।”

“এখানে মনে হয় যেন, কোনো কলোসিয়ামে খেলছি। সত্যিকারের গ্ল্যাডিয়েটর মনে হয় নিজেকে। দারুণ ব্যাপার। এখানে না থাকলে আসলে বোঝা যায় না, কত বড় ক্লাব এটি।”

রেয়াল মাদ্রিদে আসার পর খ্যাতির ভালো-মন্দ দুটি দিকের সঙ্গেই পরিচয় হয়েছে তার। তবে বাইরের সব আলোড়ন থেকে কীভাবে অনুশীলনের আবহ আলাদা, সেটিও দেখেছেন বেলিংহ্যাম।

“এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে লোকে আপনাকে চিনবে না। কখনও কখনও এটা দারুণ ব্যাপার, কখনও ভালো নয়।”

“তবে এখানে এলে বোঝা যায়, ভিন্ন এক ঘরানায় পা রাখছি, সবকিছুই ভিন্ন উচ্চতার। আবার অন্যদিকে, যখন ট্রেনিংয়ে আসছি, সবকিছুই অন্যরকম। ফুটবলাররা খুব ধীরস্থির, কোচ একদম শান্ত। সবমিলিয়ে নিজেকে মেলে ধরার ও ফুটবল নিয়ে সৃষ্টিশীল হওয়ার আবহ এখানে দারুণ।”

নতুন দেশ নতুন শহর নতুন সংস্কৃতিতে অনেক সময়ই মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় অনেকের। তবে মাদ্রিদ যেমন তাকে বরণ করে নিয়েছে আন্তরিকতায়, তিনিও এই শহরের প্রেমে মজেছেন দ্রুতই।

“এই শহরকে আপন বলেই মনে হয় আমার। আমার পরিবার এখানে মানিয়ে নিয়েছে দারুণভাবে। আমার বন্ধুরাও এই শহরে দারুণ উপভোগ করেছে। সমর্থকেরা খুবই শ্রদ্ধাশীল, আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে তারা, যেজন্য আমি কৃতজ্ঞ। দলের স্টাফ ও সবাই যেভাবে আমাকে আলিঙ্গন করেছে, মনে হয় যেন বছরের পর বছর ধরে এখানে আছি।”

রেয়ালে এখনও পর্যন্ত ২৬ ম্যাচে ১৮ গোল করে ফেলেছেন বেলিংহ্যাম। ক্লাবের সর্বকালের সেরা দুই ফুটবলার আলফ্রেদো দি স্তেফানো ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কীর্তি ছাপিয়ে গেছেন প্রথম ১৫ ম্যাচে ১৪ গোল করে। ২০২৩ সালের গোল্ডেন বয় অ্যাওয়ার্ডও জিতেছেন। তবে স্বপ্ন তার অনেক বড়। রেয়ালের জার্সিতে পাড়ি দিতে চান অনেক পথ।

“শুরুটা দারুণ হয়েছে। এখন এটা মৌসুমের বাকি সময়টায় এবং অসাধারণ এই ক্লাবে অনেক মৌসুমে ধরে রাখার ব্যাপার।”