২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 18 May 2026, 06:37 PM
২০২২ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ। মাঝের সময়ে ভিতিনিয়ার বয়স যেমন বেড়েছে, অভিজ্ঞতার ঝুলিও হয়েছে ভারি। মাঠের খেলায় হয়েছেন আরও পরিণত। জাতীয় দলে তার দায়িত্বও বেড়েছে স্বাভাবিকভাবে। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই মিডফিল্ডার নিজের ভূমিকা, পর্তুগালের সম্ভাবনা, দলের মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন অনেক কথা।
কাতার বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ভিতিনিয়া। মরক্কোর বিপক্ষে হেরে যাওয়া কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছিলেন বদলি হিসেবে। এবার তাকে পর্তুগিজরা দেখতে চাইবে ‘মাঝমাঠের অর্কেস্ট্রার’ ভূমিকায়। জাতীয় দলের হয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা, ক্লাব ক্যারিয়ারে পিএসজির হয়ে দারুণ সাফল্য পাওয়া ভিতিনিয়াও অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন।
বিশ্বকাপের আঙিনায় অবশ্য সেরা সাফল্যের দিন গোনা পর্তুগালের শেষ হয়নি এখনও। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া আজও তাদের সেরা প্রাপ্তি। গত বিশ্বকাপেও তারা পারেনি সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে; হেরে যায় সেরা চারে ওঠার লড়াইয়ে।
তাদের এবারের দলটি গড়া অভিজ্ঞ ও নতুনের সমন্বয়ে। জোয়াও কানসেলো, ব্রুনো ফের্নান্দেস, বের্নার্দো সিলভা, রুবেন দিয়াসের মতো পুরনোরা আছেন। সাথে ভিতিনিয়ার প্রজন্মের আছেন দিয়াগো কস্তা, জোয়াও ফেলিক্স, রাফায়েল লিও এবং পেদ্রো নেতো। জোয়াও নেভিসের মতো ২১ বছর বয়সী তরুণ যেমন আছেন, তেমনি আছেন ৪১ বছর বয়সী চিরতরুণ রোনালদো।
বিশ্বমঞ্চে অধরা সাফল্য পেতে ভাগ্যের একটু পরশও খুব করে চাইছেন ভিতিনিয়া।

“কখনও কখনও বিষয়টি নির্ভর করে অনেক ছোট ছোট ব্যাপার নিখুঁতভাবে হওয়ার ওপর। এটা (বিশ্বকাপ জিততে না পারা) কোনো কাঠামোগত বা বড় কোনো সমস্যা নয়। আপনাকে ভাগ্যেরও একটু ছোঁয়া পেতে হবে-এটা অস্বীকারের উপায় নেই।”
“সত্যি বলতে, আমি অতীতের ওই প্রজন্মগুলোর কথা পুরোপুরি স্মরণ করার জন্য এখনও বেশ ছোট, কিন্তু আগে যেমন পর্তুগালের অসাধারণ মানসম্পন্ন দল ছিল, এখনও আছে। দুর্দান্ত কিছু অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু আমাদের আছে। আমরা সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। যখন সময় আসবে, ভাগ্যকে কিছুটা পাশে পাব, তখন বিশ্বকাপ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছাব।”
আলৌকিক কিছু না ঘটলে রোনালদোর এটাই শেষ বিশ্বকাপ। এই মহাতারকার সাথে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগির অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ভিতিনিয়া তুলে ধরলেন, রোনালদোর চরম পেশাদার মানসিকতার কথা। তার জন্যও বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যয় ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের।
“(ড্রেসিং রুমে রোনালদোর সঙ্গে থাকতে পারা) চমৎকার। সে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তার সাথে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করতে পেরে, তার কাছ থেকে শিখতে পেরে এবং প্রতিদিন তার পেশাদার মানসিকতা দেখতে পেরে আমি গর্বিত। আশা করি, রোনালদোকে নিয়ে এবং তার জন্য আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারব।”
“মূলত (আমি রোনালদোর থেকে শিখি) ফুটবলের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গী: সে ভীষণ পেশাদার ও পরিপূর্ণ নিবেদিত। সে কোনো কিছু ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয় না। মাঠে যখন নামে, এটাই জেনে নামে যে সে শতভাগ প্রস্তুত এবং দলের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে সক্ষম।”