০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ফালকাওয়ের ফেভারিট ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স শক্তিশালী

বিশ্বকাপ জয়ের জন্য তিতের হাতে সব ধরনের খেলোয়াড় আছে বলে মনে করেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা এই মিডফিল্ডার।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Oct 2022, 04:11 PM

Updated : 22 Oct 2022, 04:27 PM

কাতার বিশ্বকাপের ফেভারিটদের নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। তাতে যোগ দিলেন ব্রাজিলের ইতিহাসে সেরা ও সবচেয়ে দুর্ভাগা দলের মিডফিল্ডার পাওলো রবের্তো ফালকাও। ৬৯ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলারের ভোট স্বাভাবিকভাবে নিজের দেশ ব্রাজিলের বাক্সে। আর্জেন্টিনা ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকেও শক্তিশালী দল মনে করেন তিনি।

বিশ্বকাপের রেকর্ড পাঁচ শিরোপার সর্বশেষটি ব্রাজিল জিতেছিল ২০০২ সালে। ষষ্ঠ ট্রফি জয়ের দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিশ্বকাপে এবারের অভিযানে নামবে তিতের দল। আগামী ২০ নভেম্বর ‍শুরু হবে আসর।

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পসরা মেলে অপরাজিত থেকে এবারের লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পার হয় ব্রাজিল। আক্রমণভাগ, মাঝমাঠ, রক্ষণ, পোস্ট-সব জায়গায় নেইমার-আলিসনের মতো তারকা থাকায় ফালকাও আশাবাদী তিতের ব্রাজিলকে নিয়ে।

“যে মানের খেলোয়াড় তাদের আছে, তাতে ব্রাজিলের ফেভারিটদের মধ্যে থাকা উচিত। আসলেই তাদের হাতে ভালো বিকল্প আছে, গতিময় খেলোয়াড় আছে, তিতে যা চায়, তা করার মতো ফরোয়ার্ড আছে। মাঠে সব পজিশনে সব ধরনের খেলোয়াড় আছে কোচের হাতে।”

“ব্রাজিলের দুজন মানসম্পন্ন সেন্টার-হাফও (মার্কিনিয়োস ও চিয়াগো সিলভা) আছে, যারা বল ক্লিয়ার করতে পারে। এ দুজন এতটা মানসম্পন্ন যে তারা মাঝমাঠেও খেলতে পারে। ব্রাজিলের প্রতি আসলেই আমার বিশ্বাস আছে।”

লিওনেল স্কালোনির হাত ধরে ছুটছে লাতিন আমেরিকার আরেক দল আর্জেন্টিনা। সবশেষ ৩৫ ম্যাচে অপরাজিত দলটি মুখিয়ে আছে ১৯৮৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা উৎসব করতে।

Image

রিয়াল মাদ্রিদে দলটির কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে রবের্তো ফালকাও (বাঁয়ে)।

বাছাইয়ের সময়টা খুব একটা ভালো না গেলেও দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্স উন্মুখ ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের সাফল্য কাতারে পুনরাবৃত্তি করতে। জার্মানি ও ইংল্যান্ডও আছে আলোচনায়। এই দলগুলো নিয়েও নিজের ভাবনা জানিয়েছেন ১৯৮২ বিশ্বকাপ সিলভার বুট জেতা ফালকাও।

“আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স খুবই শক্তিশালী। জার্মানিকেও আমার ভালো লাগছে। ইংল্যান্ডও সম্ভাবনাময় এবং পর্তুগাল ও বেলজিয়ামও আছে। বেলজিয়াম ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত। কেননা, তারা জানে, তাদের (সোনালী) প্রজন্মের অনেকের বিশ্বকাপ জয়ের এটাই শেষ সুযোগ। তারা সবসময় বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ।”

বিশ্বকাপ জিততে কেবল সেরা দল, সেরা খেলোয়াড় থাকাই যথেষ্ট নয়-এটা ব্রাজিল এবং ফালকাওরা বুঝেছিলেন ১৯৮২ বিশ্বকাপে। তিনি ছাড়াও সেই দলে ছিলেন জিকো, সক্রেতিস, এদেরের মতো তারকারা। ৪০ বছর আগের সেই দলটিকে আজও বিবেচনা করা হয় ব্রাজিলের সেরা ও দুর্ভাগা দল। শিরোপা স্বপ্নে বিভোর হয়ে এবং সবচেয়ে বড় ফেভারিট হয়ে স্পেনের ওই আসরে দ্বিতীয় ধাপের গ্রুপ পর্বে ইতালির কাছে ৩-২ গোলে হেরে ছিটকে গিয়েছিল তারা।

সেই আসরে সিলভার বল জিতেছিলেন ফালকাও, কিন্তু ব্যর্থতার গ্লানি আজও ভোলেননি তিনি। তবে সুন্দর ফুটবল খেলার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিতে পারার তৃপ্তি আজও অমলিন ইন্তারনাসিওনালের এই কোচের কাছে।

“পৃথিবীর যেখানেই আমি যাই, মানুষ সবসময় সেই দলটার কথা স্মরণ করে। আমরা কিছু জিততে পারিনি, কিন্তু আমরা বিনোদন দিতে পেরেছিলাম। আমরা ভালো ফুটবল খেলেছিলাম এবং মানুষকে শিহরিত করেছিলাম।”

“ফুটবলে জয়ই মূখ্য এবং অবশ্যই এটা সত্যি, কিন্তু যখন আপনি জয়ের জন্য খেলবেন, আপনাকে সেটা স্টাইল এবং সমর্থকদের আনন্দ দিয়ে খেলতে হবে। একজন কোচ হিসেবে বিষয়টা আমি এভাবেই দেখি।”