২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 31 Mar 2026, 11:00 PM
‘বিশ্বকাপে খেলব, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে নয়’, ইরানের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে একাধিকবার এমনটা বলা হলেও, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগের অবস্থানেই অটল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কোনো কিছুই যেন বিবেচনায় নিচ্ছেন না তিনি। আরও একবার বললেন, ইরান অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলবে এবং তাদের ম্যাচগুলো সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে অতর্কিত বিমান হামলা শুরু করে এবং তা এখনও চলমান। সময়ের সঙ্গে হামলার পরিধি বরং বাড়ছে। জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয়। মাঝে অবশ্য ইনফান্তিনো ‘তার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার’ সূত্র ধরে জানিয়েছিলেন, ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প। তবে পরিস্থিতি দ্রুতই আরও ঘোলাটে হয় ট্রাম্পের নানারকম মন্তব্যে।
ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ট্রাম্প একবার লেখেন, “ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগতম। তবে আমি সত্যিই বিশ্বাস করি না যে, তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য এখানে আসা ঠিক হবে।”
তার ওই কথার সূত্র ধরেই ইরানের ফুটবল প্রধান মেহদি তাজ বলেন, “যখন ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি ইরান জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন না, তাহলে আমরা অবশ্যই আমেরিকায় যাব না।”
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথা অবশ্য ঠিকই জানিয়েছেন তাজ, তবে অন্যখানে। এই মাসের শুরুর দিকে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছে তাদের ম্যাচগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে।
তবে ইনফান্তিনো সেই সম্ভাবনা যেন আবারও নাকচ করে দিলেন।
“ইরান বিশ্বকাপে থাকবে। (তাদেরকে নিয়ে) আমরা উচ্ছ্বসিত, কারণ তারা খুব, খুব শক্তিশালী একটা দল। আমি খুব খুশি।”
“ম্যাচগুলো সেখানেই হবে, সূচি অনুযায়ী যেখানে হওয়ার কথা।”
৪৮ দলের এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই অবশ্য হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে; প্রথম দুটি ম্যাচ হবে লস অ্যাঞ্জেলসে এবং পরেরটি হবে সিয়াটলে। আগামী ১১ জুন শুরু হবে আসর।
জটিলতা দূর করতে আগেভাগেই এগিয়ে আসে মেক্সিকো। ইরানের সবগুলো ম্যাচ নিজেদের দেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক দেশটি। ইরানের প্রথম প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ডও জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা ইরানের বিপক্ষে ম্যাচটি অন্য দেশে খেলতে প্রস্তুত।
এই সবকিছুতে একটা ইতিবাচক সমাধান মেলার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ফিফা প্রধানের কথায় তা আবার ভেস্তে যাওয়ার পথে।
বাছাই পেরিয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া প্রথম দলগুলোর একটি ইরান। এবার টানা চতুর্থবারের মতো এই মঞ্চে অংশ নেওয়ার হাতছানি তাদের সামনে। অনিশ্চয়তা থাকলেও, এর জন্য প্রস্তুতি অবশ্য চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
মঙ্গলবার কোস্টা রিকার বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে ইরান। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ৫-০ গোলে জিতেছে তারা। স্টেডিয়ামে থেকেই ম্যাচটি উপভোগ করেন ইনফান্তিনো। ম্যাচের পর ইরান দলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করেন তিনি।
“আমি দলটাকে দেখেছি, খেলোয়াড়দের ও কোচের সঙ্গে কথা বলেছি। সবকিছু ঠিক আছে।”