জাতীয় দলে মেসির শেষ সময়টুকু প্রাণভরে উপভোগ করতে চান স্কালোনি
আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে অনেক রকম অনুভূতি খেলা করছে আর্জেন্টিনা কোচের মনে।
আর স্রেফ একটা ম্যাচ। এরপরেই জাতীয় দলে শেষ হয়ে যাবে লিওনেল মেসির উত্থান-পতনে ভরা নাটকীয় অধ্যায়। সেই ম্যাচের জন্য অসীম আগ্রহ, ভালোবাসা, আবেগ দিয়ে অপেক্ষা করছেন লিওনলে স্কালোনি। মহাতারকার শুরুর সময়টা মাঠে ছিলেন তিনি, শেষটাতেও থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মানছেন তিনি।
বাংলাদেশ সময় বুধবার পাঁচটায় (এএম) বেনিনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচ দিয়েই শেষবার দেশের হয়ে মাঠে নামবেন মেসি।
এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি ম্যাচ খেলছে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা। বলিভিয়ার পর তারা সহজেই হারিয়েছে বুর্কিনা ফাসোকে। এবার ফুটবল ভক্তরা বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচের জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষায়।
বুর্কিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ ব্যবধানে জয়ের পর স্কালোনি বললেন, বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে যতটা সম্ভব মেসির সঙ্গ উপভোগ করতে চান তারা।
“লিও মেসিকে ছাড়া কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকবে না। লিওর মতো আর কাউকে এভাবে আবেগ সঞ্চারিত করতে কখনও দেখিনি। এই ব্যাপারটাই আমরা সবচেয়ে বেশি মিস করব। সে যখন আর থাকবে না, তখন তাকে কতটা মিস করব, এটা নিয়ে আমরা সব সময়ই কথা বলতাম। সেই সময় এখন চলে এসেছে, আমাদের সঙ্গে সে আর থাকবে না।
“আমি মনে করি, সবার জন্যই দিনটি খুব আবেগের হতে যাচ্ছে। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে লিও পা রাখার মুহূর্ত থেকেই সে ও সমর্থকদের এমন এক দিনের অভিজ্ঞতা হবে, যা তারা কখনও ভুলবে না। আমি সেই বিশেষ দিনের অংশ হতে পেরে কৃতজ্ঞ, কারণ দিনটি হবে তার এবং একই সঙ্গে তার সতীর্থদেরও, যাদের সঙ্গে সে ফুটবলের শ্রেষ্ঠতম আনন্দগুলো ভাগ করে নিয়েছিল। তারা এটি পাওয়ার যোগ্য।”
এক সময়ে জাতীয় দলের হয়ে. একটা শিরোপার জন্য হাহাকার শোনা যেত মেসির কণ্ঠে। স্কালোনি কোচ হয়ে আসার পর কেটে যায় ওই আক্ষেপ। দুটি কোপা আমেরিকার মাঝে জেতেন বিশ্বকাপও। মেসির এই প্রাপ্তিতে বড় ভূমিকা রাখা স্কালোনি নিজেকে রাখতে চান আড়ালেই।
“আমার কথা বললে, আমি স্রেফ একজন দর্শক হয়ে থাকব। আমি সেখানে বসে সবটুকু নিজের মধ্যে অনুভব করব। তবে এমন একটি দিনের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি বলেই আমি কৃতজ্ঞ। সে এখনও আমাদের সঙ্গে আছে। তার সঙ্গে আমাদের আরো দুটি অনুশীলন সেশন বাকি আছে এবং আমাদের কাছে থাকা এই অল্প সময়ে আমরা তাকে দেখতে থাকব এবং তার উপস্থিতি উপভোগ করব।
“তবে তাকে ফুটবল মাঠে পাওয়ার অনুভূতিটা সত্যিই অনন্য। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আমি চাই মানুষ বুঝুক যে, স্রেফ মাঠে থাকার মাধ্যমেই সতীর্থ ও প্রতিপক্ষ, নিজেদের ভক্ত ও সবার মধ্যে সে কী অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়। আমি যেমনটি আগেও বলেছি, আমি অনেক গ্রেট খেলোয়াড়কে চিনেছি, গ্রেটদের সঙ্গে খেলেছি এবং গ্রেটদের মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু কাউকে এই ধরনের অনুভূতি ছড়াতে আমি কখনও দেখিনি।”
