Published : 22 Apr 2026, 09:58 PM
বিশ্ব ফুটবলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থান নিয়ে যেন নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন দলটির সাবেক ফুটবলার পল পগবা। এই ফরাসি তারকার বিশ্বাস, ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস ম্যানচেস্টার সিটির মতো কোনো দলে খেললে ব্যালন দ’র জয়ের দাবিদার হতেন।
২০২০ সালে ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর থেকে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমার হওয়ার পরও, ফের্নান্দেস কখনও ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কারটির চূড়ান্ত মঞ্চে পৌঁছাতে পারেননি। ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে ফের্নান্দেসের পাশে খেলার অভিজ্ঞতা আছে পগবার। বর্তমানে মোনাকোর হয়ে খেলা ৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার মনে করেন, শীর্ষ মানের খেলোয়াড় হলেও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পরিবেশই পিছিয়ে রেখেছে তার সাবেক সতীর্থ ফের্নান্দেসকে।
ইউনাইটেড গ্রেট রিও ফার্ডিনান্ডের সঞ্চালনায় একটি পডকাস্ট-এ আলাপে পগবা বললেন, ফের্নান্দেস ম্যানচেস্টার শহরের অন্য প্রান্তে পেপ গুয়ার্দিওলার দলের অংশ হলে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির দিক থেকে ২৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়কে ঘিরে থাকা আলোচনাটা হতো পুরোপুরি ভিন্ন।
“ব্রুনো ফের্নান্দেস অন্য বড় ক্লাবে থাকলে ব্যালন দ’রের শীর্ষ তিনের মধ্যে থাকত সে।”
“ব্রুনো ফের্নান্দেস ইউনাইটেডে এখন যা করছে, তার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারবে? আপনি কি মনে করেন, ব্রুনো যদি অন্য দলে থাকত, তাহলে সে সেরা তিনে থাকত না? ব্যালন দ’র বিজয়ী হতো না? তাকে (ম্যানচেস্টার) সিটিতে রাখুন, সে ব্যালন দ’র জিতবে।”
২০২১ সালে ব্যালন দ’রের জন্য ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছিলেন ফের্নান্দেস। সেবার ইন্টার মিলান ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেসের সঙ্গে যৌথভাবে ২১তম হয়েছিলেন তিনি।
এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন ফের্নান্দেস। লিগের এক আসরে থিয়েরি অঁরি ও কেভিন ডে ব্রুইনের যৌথভাবে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড ছোঁয়া থেকে দুটি দূরে আছেন তিনি। এছাড়া আটটি গোলও করেছেন এই পর্তুগিজ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
ইউনাইটেডের হয়ে সব মিলিয়ে ৩২২ ম্যাচে ১০৬টি গোলের পাশাপাশি ফের্নান্দেসের অ্যাসিস্ট ২১১টি। অথচ এই সময়ে দলীয় ট্রফি বলতে তিনি জিততে পেরেছেন শুধু একটি করে এফএ কাপ ও লিগ কাপ। প্রিমিয়ার লিগের সফলতম দলটি অতীতের কঙ্কাল হয়ে আছে যে অনেক দিন ধরেই।
পগবার মতে, কেভিন ডে ব্রুইনে, লুকা মদ্রিচের মতো গ্রেট ফুটবলারদের কাতারেই রাখা উচিত ফের্নান্দেসকে।
“আমরা কেভিন ডে ব্রুইনের কথা বলি। আমরা লুকা মদ্রিচের কথা বলি, মেসুত ওজিলের কথা বলি। পরিসংখ্যান, পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলুন। সে বেশি অ্যাসিস্ট করে। সে মাঠের সব জায়গায় থাকে। সে দৌড়াতে থাকে। সে বুদ্ধিমান। সে দুই টাচে, এক টাচে খেলতে পারে। সে শট নিতে পারে।”