Published : 25 Apr 2026, 11:36 PM
খেলোয়াড়ী জীবনে কিছুটা সময় আমিনুল হক কাটিয়েছেন মোহামেডান ও আবাহনীতে। বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সাবেক এই ফুটবলার গেলেন আবাহনীর আঙিনায়। সেখানে মোহামেডান-আবাহনীর ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথের স্মৃতিচারণ করলেন তিনি। দিলেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার বার্তাও।
আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে শনিবার যান আমিনুল। ক্লাব কর্মকর্তারা ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সাবেক গোলকিপারকে। আমিনুলের হাতে আবাহনীর জার্সিও তুলে দেন তারা।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর আবাহনীর সময়টা ভালো যাচ্ছে না একেবারেই। দল গড়তেও তাদের হিমশিম খাওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। কর্মকর্তাদের অনেকের পা পড়ছে না ক্লাবের আঙিনায়।
ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে আলাপচারিতায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন আমিনুল। আবাহনীর কর্মকর্তারা নতুনভাবে ক্লাবটিকে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য সকল ইভেন্টে তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবে, এই আশাবাদও ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
“স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না বরং ক্লাবগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।”
“ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রা টিকে থাকবে, আর এ কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, বিশেষ করে ক্রীড়া কার্ড দেওয়ার কথাও তুলে ধরে আমিনুল।
“খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে।”
“এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তাদের মাঠের উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে, যা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে এবং মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূইয়া এবং বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা।