বিশ্বকাপ বাছাই
Published : 09 Sep 2025, 04:07 PM
শক্তি-সামর্থ্য কিংবা ইতিহাস-ঐতিহ্যে দুই দলের পার্থক্য অনেক হলেও মাঠের ফুটবলে দেখা মিলল ভিন্ন চিত্র। ইসরায়েলকে হারাতে ঘাম ছুটে গেল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির। শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়তে পেরে খুশি দলটির কোচ জেন্নারো গাত্তুসো। দুই দফায় পিছিয়ে পড়া দলের হার না মানা মানসিকতারও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন তিনি।
তবে এই পারফরম্যান্স দিয়ে যে ভালো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়, ভালো করেই জানেন গাত্তুসো। তাই সবার আরও উন্নতির প্রয়োজন দেখছেন তিনি। বিশেষ করে, নিজের উন্নতিটা বেশি দরকার বলে মনে করছেন সাবেক এই মিডফিল্ডার।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে সোমবার ইসরায়েলের বিপক্ষে রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে ৫-৪ গোলে জেতে ইতালি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বল দখল, কিন্তু আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শুরুতে আত্মঘাতী গোল হজম করে বসে তারা। পরে আরেক দফায় পিছিয়ে পড়া দলটি ঘুরে দাঁড়িয়ে এক পর্যায়ে দুই গোলে এগিয়েও যায়।
কিন্তু এরপর আবারও দৃশ্যপটে আসে বদল। তিন মিনিটে দুই গোল করে সমতায় ফেরায় ইসরায়েল। যখন মনে হচ্ছিল ড্র-ই শেষ পরিণতি, তখনই যোগ করা সময়ের শুরুতে ইতালিকে আনন্দে ভাসান সান্দ্রো তোনালি।
স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর গাত্তুসো বললেন, দিনটি বাজে কেটেছে তাদের। তবে খেলোয়াড়দের সমালোচনা না করে কোচ হিসেবে নিজের উন্নতির কথা বলেন তিনি।
“আমরা ভঙ্গুর ছিলাম এবং খুব সহজে গোল করতে দিয়েছি তাদের। ছেলেরা এটা জানে কিন্তু সমস্যা আমার, তাদের নয়।”
“দল হিসেবে খেলতে হলে আমাদের কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। আমার স্টাফ ও আমাকে যত দ্রুত সম্ভব উন্নতি করতে হবে। আমি আমার খেলোয়াড়দের সমালোচনা করছি না।”
ইসরায়েলের প্রতিটি গোলের জবাব যেভাবে দিয়েছে ইতালি, তাতে সন্তুষ্ট গাত্তুসো। তবে এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৪ গোল হজম করা মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
“কৃতিত্ব দলের, কারণ প্রতিটি আঘাতের (গোল) জবাব দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের ছিল। তবে আজকের মতো এতো সহজে গোল হজম করা আমরা মেনে নিতে পারি না।”
“যদিও দিনটি ভালো ছিল না। তবে লড়াইয়ের স্বদিচ্ছা ছিল সবার এবং এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ড্রেসিং রুমে আমি দলের সবাইকে ধন্যবাদ জানাব। তবে যদি গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করতে হয়, আমাদের উন্নতি করতেই হবে।”
কষ্টার্জিত এই জয়ে চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে আছে ইতালি। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে ইসরায়েল। চার ম্যাচের সবগুলো জেতা নরওয়ে শীর্ষে।
ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে ১২ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো সরাসরি পাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকেট। রানার্সআপ দলগুলোর সামনেও সুযোগ থাকবে, তবে পেরিয়ে আসতে হবে প্লে-অফের কঠিন যাত্রা।