Published : 03 Jun 2026, 03:06 PM
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ও ইউরোপে প্রথম আসর হয় ১৯৩৪ সালে, ইতালিতে। ২৭ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ১৬ দলের এই টুর্নামেন্ট দিয়েই বিশ্বকাপে প্রচলন ঘটে বাছাইপর্বের।
স্বাগতিক ইতালিরও অংশ নিতে হয় বাছাইপর্বে। ওই একবারই কোনো স্বাগতিক দেশের বাছাইপর্বে খেলতে হয়। সরাসরি খেলার সুযোগ পায় শিরোপাধারী উরুগুয়ে। তবে প্রথম আসরে ইউরোপের বড় দলগুলো খেলতে না আসার প্রতিবাদে টুর্নামেন্ট বর্জন করে লাতিন আমেরিকার দেশটি। ফিফায় যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তরাজ্যও পাঠায়নি কোনো দল।
৩৬ দল নিয়ে হওয়ার কথা ছিল বাছাই, শেষ পর্যন্ত অংশ নেয় ৩২ দল। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পেরুর। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার কথা ছিল চিলির। পেরু ও চিলি নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সরাসরি খেলার সুযোগ পায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
শেষ স্থানটির জন্য লড়াইয়ে নামে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। আসর শুরুর মাত্র তিনদিন আগে রোমে এক ম্যাচের লড়াইয়ে জিতে টিকে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৩২ সালের ৯ অক্টোবর স্টকহোমে এক সভায় সুইডেনকে বাদ দিয়ে ইতালিকে স্বাগতিক হিসেবে বেছে নেয় ফিফা। আসরে ইতালি সরকার বরাদ্দ দেয় ৩৫ লাখ লিরা।
ইতালিতে সে সময় ক্ষমতায় ছিলেন বেনিতো মুসোলিনি। ফ্যাসিবাদ প্রচারের জন্য বিশ্বকাপকে ব্যবহার করতে উন্মুখ ছিলেন তিনি। অভিযোগ আছে, স্বাগতিকদের সুবিধা পাইয়ে দিতে রেফারিদের প্রভাবিতও করেছিলেন মুসোলিনি।
আগের আসরের ফাইনালে বল নিয়ে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনার কাণ্ডের পর ইতালিতে খেলা হয় অফিসিয়াল বল ‘ফেদেরাল ১০২’ দিয়ে। উরুগুয়ের মতো একটি শহর নয়, ইতালি বেছে নেয় আট শহরের আট স্টেডিয়াম।
আসরে অংশ নেয় যে দেশগুলো-
ইউরোপ: ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, সুইডেন, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও চেকোস্লোভাকিয়া
উত্তর আমেরিকা: যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ আমেরিকা: আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল
আফ্রিকা: মিশর
এই আসরে কোনো গ্রুপ পর্ব ছিল না। নকআউট ফরম্যাটের টুর্নামেন্টে শেষ ষোলো দিয়ে শুরু হয় লড়াই। এরপর কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল।
শেষ ষোলো
২৭ মে আট শহরের আট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ১৬ দল।
রোমে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭-১ গোলে হারায় স্বাগতিক ইতালি। হ্যাটট্রিক করেন আঞ্জেলো শিয়াভিও। এডমুন্ড কনেনের হ্যাটট্রিকে বেলজিয়ামকে ৫-২ গোলে হারায় জার্মানি।
স্পেনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল, সুইডেনের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারে আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্তি সময়ে যাওয়া ম্যাচে ফ্রান্সকে ৩-২ গোলে হারায় অস্ট্রিয়া। মিশরকে ৪-২ গোলে হারায় হাঙ্গেরি।
রোমানিয়াকে ২-১ গোলে হারায় চেকোস্লোভাকিয়া। নেদারল্যান্ডসে ৩-২ গোলে হারায় সুইজারল্যান্ড।
কোয়ার্টার-ফাইনাল
ইউরোপের ১২ দলের আটটি যায় কোয়ার্টার-ফাইনালে। শেষ আটে হাঙ্গেরিকে ২-১ গোলে হারায় অস্ট্রিয়া। একই ব্যবধানে সুইডেনকে হারায় জার্মানি।
সুইজারল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারায় চেকোস্লোভাকিয়া। স্পেন ও ইতালির প্রথম লড়াই ১-১ ড্র হওয়ার পর, ভাগ্য নির্ধারণ হয় রিপ্লে ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে ইতালিয়ানদের অসংখ্য ফাউলের জন্য এই ম্যাচে খেলতেই পারেননি স্পেনের গোলরক্ষক সামোরা।
সেমি-ফাইনাল
৩ জুন হয় ফাইনালে যাওয়ার দুই লড়াই। অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে হারায় ইতালি। আর অলদ্রিচ নেদলির হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে জার্মানিকে হারায় চেকোস্লোভাকিয়া।
৭ জুন নেপলসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-২ গোলে হারায় জার্মানি।
ফাইনাল
১০ জুন মাঠে গড়ায় দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল। প্রায় ৫৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রোমের স্তাদিও নাসিওনালে হয় ইতালি ও চেকোস্লোভাকিয়ার জমজমাট লড়াই।
৭১তম মিনিটে এগিয়ে যায় চেকোস্লোভাকিয়া। ১০ মিনিট পর সমতা ফেরায় ইতালি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
৯৫তম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন শিয়াভিও। ইউরোপ পায় প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ইতালি পায় প্রথম শিরোপা।
আসরে ১৭ ম্যাচে গোল হয় ৭০টি! ম্যাচ প্রতি ৪.১১ গোল। টুর্নামেন্টে বহিষ্কৃত হন একজন খেলোয়াড়।
১৯৩০ সালে দলগুলো খেলেছিল ২-৩-৫ ফরম্যাটে। ১৯৩৪ আসরে দুটি ফরম্যাটে খেলে দলগুলো। একটি ডব্লিউএম অর্থাৎ ৩-২-২-৩ এবং অন্যটি মেতোদো অর্থাৎ ২-৩-২-৩ ফরম্যাটে। কোচ ভিত্তোরিও পোজ্জোর ২-৩-২-৩ ফরম্যাটের বড় ভূমিকা ছিল ইতালির শিরোপা জয়ে।
এক নজরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ
স্বাগতিক: ইতালি
চ্যাম্পিয়ন: ইতালি
রানার্সআপ: চেকোস্লোভাকিয়া
মোট ম্যাচ: ১৭
মোট গোল: ৭০
গোল গড়: ৪.১১
সর্বোচ্চ গোলদাতা: অলদ্রিচ নেদলি (চেকোস্লোভাকিয়া)- ৫ গোল
সেরা খেলোয়াড়: গুইসেপ্পো মেজ্জা (ইতালি) [আন অফিসিয়াল]