নারী ফুটবল
Published : 11 Aug 2025, 05:37 PM
প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ ও এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে মেয়েরা। এই দুটি টুর্নামেন্ট সামনে রেখে প্রস্তুতি ঠিকঠাক নিতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে)। সংস্থাটির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ জানিয়েছেন, সামনের উইন্ডোগুলোতে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর সাথে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ উইমেন’স এশিয়ান কাপের বাছাই পেরুনো সাগরিকা-আফঈদারা সোমবার লাওস থেকে দেশে ফিরবেন। কিছু দিন আগে মিয়ানমারে বাছাই পেরিয়ে উইমেন’স এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার টিকেট পায় মেয়েরা।
আগামী এপ্রিলে থাইল্যান্ডে হবে অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রতিযোগিতাটি। তার আগে মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় হবে সিনিয়র টিমের এশিয়ান কাপ। এই প্রতিযোগিতায় নকআউট পর্বে উঠলে ঋতুপর্ণা-আফঈদারা পারবেন সরাসরি লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকসে খেলতে; সেরা ছয় দলের মধ্যে থাকতে পারলে মিলবে ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ।
অস্ট্রেলিয়ার আসর সামনে রেখে তাই আটঘাঁট বেঁধে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাফুফে। তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়নে আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আবারও তুলে ধরলেন কিরণ।
“যেহেতু একই বছরে দুটো টুর্নামেন্ট। আমাদের অনেক বেশি আর্থিক সহায়তার দরকার হবে। আমরা ১৩ তারিখে সভাপতির সঙ্গে বসব। দুটো দলের জন্য প্র্যাকটিস ম্যাচ ও ট্রেনিংয়ের বন্দোবস্তো করব। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। অনেক কিছু পরিকল্পনা করি কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারি না। যেহেতু আমাদের আর্থিক অবস্থা সেভাবে নেই। আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে এফোর্ট দিতে হবে এজন্য।”
“জাপান ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আজকে আমি আবারও মেইল করেছি। আমরা সিনিয়র জুনিয়র দুই দলকে নিয়ে একসঙ্গে ক্যাম্প করতে চাচ্ছি সেখানে। অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ফিফা উইন্ডোর জন্য থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের সঙ্গে কথা চলছে। আমি আশা করছি সেটাও হয়ে যাবে।”
সবশেষ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকারসহ কয়েকজন জায়গা পাননি দলে। সামনের পথচলায় এই অভিজ্ঞদের ফেরানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। কিরণ বল ঠেলে দিয়েছেন কোচ পিটার জেমস বাটলারের কোর্টে।
“পিটার কাকে নেবে, কাকে নেবে না, এটা সম্পূর্ণ তার ওপর নির্ভর করে।”
ক্যাম্পে থাকা মেয়েদের পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, তবে এই অভিযোগ নিয়ে ঘোর আপত্তি কিরণের।
“পুষ্টিহীনতার কথায় আমি একমত হব না। বাফুফের ডর্মেটরিতে যে খাবার দেওয়া হয়, সেটা পুষ্টিবিদ দিয়ে ডায়েট চার্ট করা। অনেকেই বলেন যে, আমরা এখানে পাঙ্গাশ মাছ খাই। বেশিরভাগ সময় রুইমাছ থাকে। থাকে মুরগি, গরু, খাসি ও ডিম। ইলিশ ও পাবদা খেতে চাইলে দেওয়া হয়। প্রতিদিন তো এমন খাবারই দেওয়া হয়।”
“মেয়েরা যদি ঠিকমত খেতেই না পারে, তাহলে তো শক্তি থাকবে না। ৯০ মিনিট খেলতেই পারবে না। ওরা তো ৯০ মিনিট একই ছন্দে খেলে। না খেয়ে খেলে? পাঙ্গাস মাছ খেয়ে খেলে? না; তাদের পুষ্টি আমরা নিশ্চিত করি।”
কিরণ অবশ্য মানছেন এশিয়ার পর্যায়ে ভালো করতে গেলে খেলোয়াড়দের পুষ্টি, অনুশীলনের সুবিধা, শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে তাদের।
“আমাদের ওই পর্যায়ে যেতে একটু সময় লাগবে। কারণ এখনও অনেক কিছু করা বাকি। এর প্রমাণ পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে (এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ উইমেন’স এশিয়ান কাপ)। আমি পিটারকে বলেছি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটা আমার জন্য শিক্ষনীয় ম্যাচ। ওই ম্যাচ থেকে মেয়েরা শিখতে পেরেছে কোথায় উন্নতি করতে হবে। বড়-ভালো ফুটবলার হতে কি করতে হবে। একই ভাবে পিটারও দেখেছেন তার দলকে কোথায় উন্নতি করতে হবে। আমাদের ওই পর্যায়ে যেতে সময় লাগবে।”