১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টাইব্রেকারে আতলেতিকোর হৃদয় ভেঙে চ্যাম্পিয়ন সোসিয়েদাদ

দুইবার সমতায় ফিরে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিলেও, পেনাল্টি শুটআউটে পেরে উঠল না দিয়েগো সিমেওনের দল।

টাইব্রেকারে আতলেতিকোর হৃদয় ভেঙে চ্যাম্পিয়ন সোসিয়েদাদ
চতুর্থবারের মতো কোপা দেল রের শিরোপা জিতল রেয়াল সোসিয়েদাদ। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Apr 2026, 04:34 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:26 PM

ম্যাচের ১৫ সেকেন্ডেই আতলেতিকো মাদ্রিদের জালে জড়াল বল। ধাক্কা সামলে জবাব দিল তারা দ্রুতই। প্রথমার্ধে আবার গোল করে জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল রেয়াল সোসিয়েদাদ। কিন্তু শেষ দিকে নাটকীয় মোড়, দ্বিতীয়বার ম্যাচে ফিরে লড়াইটা অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিল দিয়েগো সিমেওনের দল। তবে পেনাল্টি শুটআউটে পেরে উঠল না তারা। পাঁচ মৌসুম পর কোপা দেল রের শিরোপা জিতল সোসিয়েদাদ।

সেভিয়ায় শনিবার রাতে স্পেনের দ্বিতীয় সেরা প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ২-২ সমতার পর, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতেছে সোসিয়েদাদ। 

আন্দের বারেনেক্সিয়ার গোলে পিছিয়ে পড়া আতলেতিকোকে সমতায় ফেরান আদেমোলা লুকমান। প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে সোসিয়েদাদের দ্বিতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক মিকেল ওইয়ারসাবাল। নির্ধারিত সময়ের সাত মিনিট বাকি থাকতে সমতা টানেন হুলিয়ান আলভারেস। 

প্রথমার্ধে দুইবার এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ। ছবি: রয়টার্স

প্রথমার্ধে দুইবার এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ

পেনাল্টি শুটআউটে আলেকসান্দার সরলথ ও আলভারেসের নেওয়া আতলেতিকোর প্রথম দুটি শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক উনাই মারেরো। দলটির দ্বিতীয় শট নেওয়া অস্কারসন ব্যর্থ হলেও, বাকি চার জন পান জালের দেখা। 

সোসিয়েদাদের সাফল্যে অনন্য এক কীর্তি গড়লেন কোচ পেল্লেগ্রিনি মাতারাজ্জো। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোচ হিসেবে কোনো কাপ ফাইনালে শিরোপা জিতলেন তিনি।

৩৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে কোপা দেল রেতে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা জিতেছিল সোসিয়েদাদ। এবার জিতল চতুর্থবারের মতো। 

প্রতিযোগিতাটির ১০ বারের শিরোপা জয়ী আতলেতিকো সবশেষ জিতেছিল ২০১২-১৩ মৌসুমে। মাদ্রিদের দলটির অপেক্ষা আরও বেড়ে গেল।

খেলা শুরু হতে না হতেই আতলেতিকোর জালে বল পাঠায় সোসিয়েদাদ। বাঁ দিক থেকে গন্সালো গেদেসের ক্রসে বক্সে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের ওপর লাফিয়ে হেড করেন বারেনেক্সিয়া। বলে খুব বেশি গতি না থাকলেও, ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি গোলরক্ষক।

হুলিয়ান আলভারেসের দারুণ গোলে শেষ দিকে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরায় আতলেতিকো মাদ্রিদ। ছবি: রয়টার্স

হুলিয়ান আলভারেসের দারুণ গোলে শেষ দিকে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরায় আতলেতিকো মাদ্রিদ

সেমি-ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে জয়ী আতলেতিকো ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেয়নি। অষ্টাদশ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান লুকমান। অঁতোয়ান গ্রিজমানের পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সোসিয়েদাদের তিন খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।

আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণ চলতে থাকে দুই দলের। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অধিনায়ক ওইয়ারসাবালের সফল স্পট কিকে দ্বিতীয়বার এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদ। আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো বক্সে লাফিয়ে হেড করতে ওঠা গেদেসের ঘাড়ে আঘাত করায় পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। হলুদ কার্ডও দেখেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া চেষ্টা চালায় আতলেতিকো। কিন্তু দ্বিতীয় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৮৩তম মিনিটে চমৎকার গোলে স্কোরলাইন ২-২ করেন আলভারেস। থিয়াগো আলমাদার পাস বক্সের সামনে পেয়ে বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দারুণ সুযোগ পান আতলেতিকোর কার্দোসো। কিন্তু কাছ থেকে ওয়ান-অন-ওয়ানে বাইরে মেরে বসেন তিনি।

অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো লড়াইয়ে ম্যাচের ৯৮তম মিনিটে দুর্দান্ত ডাবল সেভে আতলেতিকোকে বাঁচান মুসো। লুকা সুসিকের নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর, কাছ থেকে অস্কারসনের প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি। দুই মিনিট পর আবার গোল করতে পারতেন আলভারেস। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে তার জোরাল শট পোস্টে লাগে। এই হতাশা তাদের আরও বেড়ে যায় টাইব্রেকারে হেরে।