ভেনেজুয়েলার চ্যালেঞ্জ সামলে জিততে আশাবাদী ব্রাজিলের তরুণরা
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আবার পরপর দুই ম্যাচ জিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চান ব্রাজিল দলে ডাক পাওয়া এস্তেভাও, মুরিলো, ভান্দারসনরা।
হতশ্রী পারফরম্যান্সে নেতিবাচক শুরুর পর ক্রমে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সবশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে তার। বিশ্বকাপ টিকেট নিশ্চিতের অভিযানে তাদের পরের দুই প্রতিপক্ষ ভেনেজুয়েলা ও উরুগুয়ে। দলের তরুণ ফুটবলারদের আশা, ছন্দ ধরে রেখে ইতিবাচক ফল পাবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ভেনেজুয়েলার মাঠে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে খেলতে নামবে ব্রাজিল। বুধবার ভোরে তাদের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে।
এই দুই ম্যাচের জন্য দ্বিতীয়বার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন এস্তেভাও উইলিয়ান আলমেইদা। গত সেপ্টেম্বরে একুয়েডর ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলেছেন ১৭ বছর বয়সী উইঙ্গার।
ব্রাজিলিয়ান লিগে পালমেইরাসের হয়ে এখন পর্যন্ত ১২ গোল করে সবার ওপরে এস্তেভাও। জাতীয় দলেও সেই ছন্দ ধরে রাখতে চান তরুণ উইঙ্গার। তবে ভেনেজুয়েলা ম্যাচটি সহজ হবে না মনে করেন তিনি।
ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের ভিডিওবার্তায় সব চ্যালেঞ্জ সামলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন এস্তেভাও।
“আমাদের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে খেলা গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলাররা আছে তাদের দলে। আমরা জানি, এই ম্যাচ খুব কঠিন হতে চলেছে। তবে মাঠে আমরা সব বাধা অতিক্রম করব এবং সৃষ্টিকর্তা চাইলে জয় নিয়েই মাঠ থেকে বের হবো।”
এস্তেভাওয়ের মতো এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন ভেন্দেরসন। মূল পরিচয় রাইট ব্যাক হলেও ক্লাব ফুটবলে আক্রমণে সাহায্য করার পারদর্শিতা প্রায়ই দেখান তিনি।
ফরাসি ক্লাব মোনাকোর হয়ে চলতি মৌসুমে ৮ ম্যাচে এরই মধ্যে একটি করে গোল-অ্যাসিস্টি করেছেন ২৩ বছর বয়সী ভেন্দেরসন। এবার তার সামনে জাতীয় দলের রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে এখনও কোনো ম্যাচ না হারা ভেনেজুয়েলার ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা ভেন্দেরসনের। তবে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের খেলায় আস্থা রাখার কথা বলেছেন তিনি।
“নিজেদের মাঠে তারা শক্তিশালী। আমরা তাদের নিয়ে গবেষণা করেছি। নিজেদের ছন্দ ধরে রেখে আমরা জয়ের চেষ্টা করব। আমার মনে হয় না, সহজ প্রতিপক্ষ বলতে কিছু আছে। ভেনেজুয়েলাও সহজ হবে না, বিশেষ করে তাদের মাঠে। তবে আমরা নিজেদের ছন্দমতো খেলে জিততে চেষ্টা করব।”
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম ছয় ম্যাচে মাত্র দুই জয়, এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট পেয়েছিল ব্রাজিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই দর্শক-সমর্থকদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাদের। তবে সেই কঠিন সময় পেরিয়ে এখন আলোর পথে দরিভাল জুনিয়রের দল।
সবশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে দুই ম্যাচ জিতে ১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে গেছে তারা। জয়ের ধারায় থাকতে সামনের দুই ম্যাচের জন্য সমর্থকদের পাশে চাইলেন প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ২২ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাক মুরিলো কস্তা।
“ব্রাজিল সমর্থকদের উচিত জাতীয় দলের আরও কাছাকাছি আসা। আমরা ফুটবলাররা এই বিষয়ে সতর্ক। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, অনেক কিছুই বদলাচ্ছে। গত কয়েক ম্যাচে অনেক কিছু বদলে গেছে।”
