Published : 15 Oct 2024, 02:08 PM
ইসরায়েলের বিপক্ষে ইতালির ম্যাচের ৭৪তম মিনিটের খেলা চলছে তখন। ইতালির ফুটবলের একটি মাহেন্দ্রক্ষণ এলো তখনই। বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন দানিয়েল মালদিনি। অনন্য এক অধ্যায়ের সূচনা হলো ইতালিয়ান ফুটবলের।
ইতালিয়ান ফুটবলের সঙ্গে মালদিনি পরিবারের সংযোগ চেসারে মালদিনিকে দিয়ে। পরে বিশ্ব ফুটবল রাঙিয়েছেন তার ছেলে পাওলো মালদিনি। এবার পাওলোর ছেলে দানিয়েলের অভিষেক হয়ে গেল ইতালির জার্সিতে।
এক পরিবারের তিন প্রজন্মের ইতালির জার্সি গায়ে চাপানোর নজির এটিই প্রথম।
উদিনেতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচটিতে দাপুটে ফুটবল খেলে ৪-১ গোলের জয় পায় ইতালি। গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রাখে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
দানিয়েলের অভিষেকের আশায় এ দিন মাঠে ছিলেন পাওলো। ছেলে মাঠে নামার সময় এই কিংবদন্তির চোখেমুখে খেলে যায় গর্বের ছায়া।
দানিয়েলের দাদা চেসারে মালদিনি পেশাদার ফুটবলে পা রাখেন ১৯৫২ সালে। বছর দুয়েক পর তিনি পাড়ি জমান এসি মিলানে। ১৫ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারের ১২ বছরই তিনি ছিলেন এই ক্লাবে। মিলানের হয়ে সাড়ে তিনশর বেশি ম্যাচ খেলেন এই ডিফেন্ডার।
ক্লাবের গ্রেট হলেও ইতালির হয়ে তার ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ ছিল না। ১৯৬০ সালে অভিষেক, দেশের হয়ে কেবল ১৪ ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। এর মধ্যে ছিল ১৯৬২ বিশ্বকাপও। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবেও বেশ সফল ছিলেন তিনি।

পরে বাবাকে ছাড়িয়ে যান পাওলো মালদিনি। ১০ বছর বয়সে এসি মিলানের একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর এই ক্লাবের হয়ে পেশাদার ফুটবলে পা রাখেন ১৯৮৪ সালে। ২৫ বছরের ক্যারিয়ারের পুরোটা কাটিয়ে দেন এই ক্লাবের হয়েই। ইতালির হয়ে তার অভিষেক ১৯৮৮ সালে।
এসি মিলানের হয়ে তিনি খেলেছেন সাড়ে ছয়শ ম্যাচ, ইতালির হয়ে ১২৬টি। ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডারদের একজন হিসেবে তাকে মানেন প্রায় সবাই।
দাদা ও বাবার মতো দানিয়েল ডিফেন্ডার নন, বরং তিনি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তার শুরুটাও এসি মিলানে। ক্লাবের হয়ে তিনি গোল করায় তিন প্রজন্মের গোল করার ইতিহাস রচনা হয়েছে। তবে খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি এখানে। চার বছরের এসি মিলান অধ্যায়ে খেলতে পেরেছেন কেবল ১৫টি ম্যাচ। ধারে খেলেছেন তিন ক্লাবে। এই মৌসুমে নতুন পথচলা শুরু করেছেন মোন্সার হয়ে।
জাতীয় দলে প্রথম ডাক পান তিনি এই নেশন্স লিগেই। এবার অভিষেকও হয়ে গেল।
মায়ের সূত্রে দানিয়েল জাতীয় দল হিসেবে বেছে নিতে পারতেন ভেনেজুয়েলাকেও। তবে মালদিনি আর ইতালি তো প্রায় সমার্থক! ভিন্ন পথ বেছে নেননি তিনি। ম্যাচ শেষে ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার বললেন দেশের হয়ে খেলার ভালো লাগা ও গর্বের কথা।
“আমি খুবই খুশি যে বাবা-মা এখানে এসেছে। বাড়ি ফিরে তাদের সঙ্গে কথা বলব।”
“খুবই তীব্র ও আনন্দময় আবেগ ছিল (মাঠে নামার সময়…)। খুবই খুশি যে দেশের হয়ে খেলতে পেরেছি এবং ম্যাচটিও দারুণ হয়েছে আমাদের জন্য। আশা করি, দলে কিছু মান যোগ করতে পারব আমি, যদিও এখনই মানের কোনো ঘাটতি নেই। তবে যতটা সম্ভব, দলকে সহায়তা করার চেষ্টা করব।”