২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কস্তা সেরেনা: জাহাজ যখন অ্যাথলেটদের নিবাস

ইতালির এই ক্রুজ শিপে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে এশিয়ান গেমসের আয়োজক দেশ জাপান।

কস্তা সেরেনা: জাহাজ যখন অ্যাথলেটদের নিবাস

ক্রুজ শিপ কস্তা সেরেনা। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মোহাম্মদ জুবায়ের মোহাম্মদ জুবায়ের

জাপান থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Sep 2026, 05:16 PM

Updated : 23 Sep 2026, 05:16 PM

কিনজো-ফুতো স্টেশন থেকে নামার পর একটু হাঁটলেই পোর্ট মেসে। এখানে পাশাপাশি তিনটি হল। এর লাগোয়া নাগোয়া বন্দরের কিনজো পিয়ার পোতাশ্রয়ে নোঙর করা ঢাউস এক জাহাজ। নাম কস্তা সেরেনা। নাম শুনে কিছুটা অনুমান করা গেল ইতালিয়ান ক্রুজ শিপ। এই জাহাজই এখন হোটেল। যেখানে নানা দেশের অ্যাথলেটদের সাথে আছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরাও।

বন্দর এলাকা অথচ কী পরিচ্ছন্ন, গোছাল! জাহাজ পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা ঝকঝকে, তকতকে। বন্দরের অদুরে চিমনি জ্বলছে, সাদা ধোঁয়া কুন্ডুলী পাকিয়ে উড়ছে, অথচ চারদিক পরিস্কার। জাহাজের অদুরেই নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। সেখানে বাইরের কারো যাওয়ার অনুমতি নেই। দেখা গেল, আশাপাশে বিভিন্ন অ্যাথলেটদের ঘোরাফেরা করতে, ছবি তুলতে।

সচারচর গেমসের জন্য ভিলেজ থাকে, যেখানে সব দেশের অ্যাথলেটদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। খরচ কমাতে জাপান গেমসের জন্য কোনো ভিলেজ করেনি। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে তারা কস্তা সেরেনা ভাড়া করে এনেছে অ্যাথলেটদের রাখার জন্য।

এই জাহাজে কেবিনের সংখ্যা ১,৫০০টি। ৪৩টি দেশের প্রায় ৪,০০০ ক্রীড়াবিদ এবং অফিশিয়ালদের থাকার ব্যবস্থা করেছে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের আয়োজকরা। বাংলাদেশের আটটি দলের অ্যাথলেটদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দলগুলো হলো- কাবাডি, জুডো, আর্চারি, টেবিল টেনিস, ভারোত্তলন, রেসলিং, উশু, জিমন্যাস্টিকস। জুডো আর রেসলিং দলের অ্যাথলেটরা এখনও জাহাজে ওঠেননি। তারা পরে উঠবেন।

বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩১টা রুমে। কিন্তু রুমের আকৃতি ছোট এবং বাংলাদেশের অ্যাথলেট সংখ্যা বেশি হওয়ায় বেধেছে বিপত্তি। কিছুটা গাদাগাটি করে এক রুমে দুই জনের বদলে তিন জন করেও থাকতে হচ্ছে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ দলের শেফ দে মিশন মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ।

“এই জাহাজে আমাদের ৭৯ জন থাকার কথা। কিন্তু আমাদের দেওয়া হয়েছে ৩১টা রুম। দুইটা করে বেড হলে ৬২ জন থাকতে পারে। সমস্যা হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ পর্যন্ত এখানে আমাদের প্রায় ৭০ জনের মতো থাকবে। আমাদের আটটা বেড কম পড়ছে। এগুলোকে আমাদের ম্যানেজ করতে হয়েছে তিন জনকে এক রুমে দিয়ে।”

“আয়োজকরা আমাদের মেইল দিয়ে জানিয়েছে, কিছু রুমে সোফা বেড আছে; সেগুলো ব্যবহার করতে। বিষয়টি আমরা মিটিংয়ে তুলেছিলাম। বলেছিলাম, এখানে আমরা তো ঘুরতে আসিনি। কীভাবে এক রুমে তিন জন থাকবে? কিন্তু তারা কোনো উত্তর দেয়নি। শেষ পর্যন্ত আমরা ম্যানেজ করেছি।”

ম্যানেজ করতে গিয়েও বিপত্তির শেষ নেই। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইমরোজ বললেন, কিছু কোচ, অফিসিয়ালদের জন্য জাহাজের বাইরেও ব্যবস্থা করতে হয়েছে তাদের।

“দেখুন, কাবাডি ও আর্চারিতে ছেলে-মেয়ে আছে। এই কম্বিনেশন করতে গিয়েও আমাদের ভীষণ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এদের সাথে কোচও, কর্মকর্তারা আছে। এখানে মার্টিনের (ফ্রেডরিখ, আর্চারি কোচ) জন্য রুম দিতে গিয়ে ওই রুমে যার থাকার কথা, তাকে অন্য রুমে বন্দোবস্তো করতে হয়েছে। এখানে ঢুকতে হলে রেজিস্ট্রি করতে হবে, বের হতে হলেও রেজিস্ট্রি করতে হবে। ফলে চাইলেও বদলানো সম্ভব নয়। এ কারণে অফিসিয়াল, কোচদের জাহাজের বাইরে হোটেলে রাখতে হচ্ছে আমাদের।”