Published : 28 May 2026, 08:36 AM
এক ম্যাচের ফাইনালে খেললেই ট্রফি জয়- লুইস এনরিকের কোচিংয়ে খেলা দলগুলোর জন্য হয়ে উঠেছে নিয়মিত চিত্র। এই স্প্যানিশ কোচের সামনে আরও একটি ফাইনাল। হাতছানি আরেকটি শিরোপা জয়ের।
আগামী শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে এনরিকের দল পিএসজি। গত এক দশক ধরে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোতে দুর্দান্ত রেকর্ড তৈরি করেছেন তিনি।
বার্সেলোনা ও পিএসজির কোচ হিসেবে ১২টি এক ম্যাচের ফাইনালের ১১টিই জিতেছেন এনরিকে। বার্সেলোনায় সব ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলকানি তাকে প্রথম ইউরোপিয়ান সাফল্যের স্বাদ দিয়েছিল। পিএসজির সম্মিলিত ঝড় তাকে ফিরিয়ে নিয়েছে সেখানে।
এনরিকে যেভাবে সেই ফাইনালগুলো জিতেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
তার দল শুধু ফাইনালে টিকে থাকে না, তারা শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলে। ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ইউভেন্তুসকে ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ট্রেবল জয় করে এনরিকের তখনকার দল বার্সেলোনা।

কয়েক মাস পর, তারা উয়েফা সুপার কাপের এক ম্যাচের শিরোপা লড়াইয়ে সেভিয়াকে হারায় ৫-৪ গোলে, যা ছিল আক্রমণাত্মক ফুটবলের চমৎকার প্রদর্শনী।
কোপা দেল রে জয়, রিভার প্লেটের বিপক্ষে ক্লাব বিশ্বকাপ জয়, তার বার্সেলোনা দল সবসময় আক্রমণাত্মক কৌশলেই এগিয়ে যেত।
বার্সেলোনার চেয়ে পিএসজির খেলার ধরন ভিন্ন। দীর্ঘক্ষণ বল দখলে রাখার চেয়ে চাপ ও মুভমেন্টের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে তারা। বল ছাড়া তারা যেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক।
তবু তাদের মূল সুর একই। এনরিকের দলগুলো ফাইনালে এমনভাবে খেলে, যেন তারা দ্বিধাহীনভাবে বিশ্বাস করে সংশয়ে থাকলেই পস্তাতে হবে।
সেই মানসিকতার দেখে মেলে গত বছর মিউনিখেও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে প্রথমবার ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হয় পিএসজি।

ওই সাফল্যের কয়েক সপ্তাহ পর, ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে অবশ্য চেলসির বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে যায় পিএসজি। এক ম্যাচের ফাইনালে কোচ এনরিকের একমাত্র হার সেটি।
কিন্তু সেটি ছিল ভিন্ন পরিস্থিতিতে, ক্লান্তিকর একটি মৌসুমের শেষে, যেবার পিএসজি প্রতিটি প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত গিয়েছিল এবং তাদের খেলোয়াড়রা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ ক্লান্ত ছিল।
এখন দুয়ারে আরেকটি ফাইনাল। কদিন আগে এনরিকে সাংবাদিকদের বলেছেন, যখন বল পায়ে থাকে না, তখন বিশ্বের সেরা দল আর্সেনাল, আর বল পায়ে তারা নিজেরাই সেরা।
আর্সেনালের জন্য এই চ্যালেঞ্জ যতটা কৌশলগত, ঠিক ততটাই মনস্তাত্ত্বিক। তারা এমন একটি দলের মুখোমুখি হবে, যারা এনরিকের কোচিংয়ে ফাইনালকে নিয়মিত ব্যাপার বানিয়ে ফেলেছে। তিনি এমন একজন কোচ, যাকে সবচেয়ে বেশি চাপের মুহূর্তে আরও বিপজ্জনক মনে হয়।
কারণ বার্সেলোনা ও পিএসজিতে, ভিন্ন ভিন্ন দল, খেলার ধরন ও প্রজন্মের মধ্যেও একটি ধারা টিকে আছে, আর সেটা হলো লুইস এনরিকে যখন এক ম্যাচের ফাইনালে পৌঁছান, তিনি সাধারণত ট্রফি নিয়েই ফেরেন!