স্বপ্ন পূরণে কোচের 'শেষ ৯০ মিনিটের' বার্তা

নেপালের বিপক্ষে ফাইনাল সামনে রেখে খোশ-মেজাজে প্রস্তুতি সেরেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল।

কাঠমান্ডু থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Sept 2022, 12:48 PM
Updated : 17 Sept 2022, 12:48 PM

প্রস্তুতির আগ মুহূর্তে কোচের ডাকে খেলোয়াড়রা জড়ো হলেন। দাঁড়ালেন বৃত্তাকার হয়ে। গোলাম রব্বানী ছোটন দিলেন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। যার শেষটা ছিল, আগের চার ম্যাচের ছন্দে ‘আর ৯০ মিনিট খেলো’। কোচের কথা শেষ হতেই শপথের ভঙ্গিতে হাত উঁচিয়ে সাড়া দিলেন সাবিনা-কৃষ্ণা-মারিয়ারা। নেপালের বিপক্ষে ফাইনাল সামনে রেখে টগবগে আত্মবিশ্বাসে ফুটতে থাকার এক বাংলাদেশ দলের প্রতিচ্ছবিই ভেসে উঠল।

কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সোমবার মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এ উপলক্ষে শনিবার দশরথের পাশে আর্মি হেডকোয়াটার মাঠে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ।

আগের দিন সেমি-ফাইনালে ভুটানকে ৮-০ গোলে ভাসিয়ে দেওয়া ম্যাচের খেলোয়াড়দের ছিল রিকভারি সেশন। বরাবরের মতো তাই সাবিনা-কৃষ্ণাদের খোশগল্পে মেতে থাকতে, আঁখি-শিউলিদের ফুল তুলতে, মাসুরা-সানজিদাদের ফটোগ্রাফারের ভুমিকায় দেখা গেছে। বাকিদের নিয়ে ঘাম ঝরিয়েছেন ছোটন।

এবার বাংলাদেশের যে না পাওয়াগুলো পূরণ হয়েছে, তার মধ্যে একটি ভারতকে হারানো। সাফে তো বটেই, এবারের গ্রুপ পর্বের ৩-০ ব্যবধানের জয়ের আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়েও তাদের বিপক্ষে জয় ছিল না ছোটনের দলের। সাফে নেপালের বিপক্ষেও জয় নেই বাংলাদেশের! এ পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া তিন ম্যাচের তিনটিতেই সঙ্গী হারের বিষাদ। 

দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের এই সর্বোচ্চ আসরে সবশেষ ২০১৯ সালে নেপালের বিরাটনগরে সবশেষ স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বেই ওই দেখায় মাসুরা পারভীনের শুরুর দিকের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর দুই গোল হজম করে হেরেছিল বাংলাদেশ। হয়েছিল গ্রুপ রানার্সআপ। পরে সেমি-ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয় দল।

গত বছরের সেপ্টেম্বরেও নেপালে এসে ‍দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। সুখের নয় সে স্মৃতিও। প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছিল দল। নেপালের বিপক্ষে অধরা জয় এবার ধরতে মরিয়া বাংলাদেশ কোচ ছোটন।

ভুটানকে উড়িয়ে দেওয়া ম্যাচের পর হোটেলে ফিরে গোছগাছ সেরে তাই তিনি সহকারীদের নিয়ে ছুটে চলে এসেছিলেন দশরথ স্টেডিয়ামে; ভারত-নেপাল দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল দেখতে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আসা নেপালের খেলা খুটিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন।

সেই দেখা থেকে খেলোয়াড়দের কাছে ছোটনের ওই চাওয়া। গত চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২০ গোল করা, কোনো গোল হজম না করার তৃপ্তি সঙ্গী হলেও কোচ তাগাদা দিচ্ছেন আরও উন্নতির।

“প্রথম ম্যাচে আমাদের ফিনিশিং নিয়ে সমস্যা ছিল। পরের ম্যাচে সেটার উন্নতি হয়েছে। এরপর প্রতিটি ম্যাচে সব বিভাগে উন্নতির ধারায় আছে মেয়েরা। নেপালের বিপক্ষে ফাইনাল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। ফিফটি-ফিফটি ম্যাচ হবে। এখানে সুযোগ কম আসবে, কিন্তু যেগুলোই আসবে ফিনিশিং করতে হবে।”

মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরুর পর পাকিস্তানকে ৬-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। শক্তিশালী ভারতকে ৩-০ গোলে হারানো ম্যাচেও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ছিল মুগ্ধ করার মতো। সেমি-ফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে জয় ৮-০ গোলের। প্রতিটি ম্যাচের ভাগ্য সাবিনা-কৃষ্ণারা লিখেছেন ৯০ মিনিটের মধ্যে। এদিনের প্রস্তুতিতে তাই ‘আর ৯০ মিনিটের’ বার্তা মেয়েদের দিলেন কোচ।  

“এ পর্যন্ত তোমরা ভালো খেলেছো। গত চারটা ম্যাচে পুরো নব্বই মিনিট যেভাবে পারফর্ম করেছো, সামনে ফাইনাল, শিরোপা জিততে হলে আরও নব্বই মিনিট একই ধারাবাহিকতায় খেলো।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক