Published : 23 Nov 2025, 05:27 PM
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরের মাঠে ফেরা, আবেগের ম্যাচে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়া, দুই মাস পর কোনো ম্যাচে জাল অক্ষত রাখতে পারা- সব মিলিয়ে ‘পরিপূর্ণ’ একটা দিন কেটেছে বার্সেলোনার। সবকিছু মিলিয়ে তাই উচ্ছ্বসিত স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের কোচ হান্সি ফ্লিক।
কাম্প নউয়ের সংস্কার এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই প্রিয় আঙিনায় ফিরে শনিবার আথলেতিক বিলবাওকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা।
২০২৩ সালের মে মাসের পর এই মাঠে শনিবারই প্রথম খেলল বার্সেলোনা। ফেরার ম্যাচে প্রথম গোলটি করেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। পরে জোড়া গোল করেন ফেররান তরেস, জালের দেখা পান ফের্মিন লোপেসও।
বার্সেলোনার কোচ হওয়ার পর এই প্রথম কাম্প নউয়ের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন ফ্লিক। প্রথম দিনেই তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন, বার্সেলোনা সমর্থকদের ৯০৯ দিন পর প্রিয় মাঠে ফেরার অনুভূতি কেমন।
“খেলোয়াড়, স্টাফ, কোচ- সবার জন্য এটি ছিল বিশেষ ম্যাচ। সমর্থকদের জন্যও এই স্টেডিয়ামে ফিরে আসা ছিল অবিশ্বাস্য অনুভূতি। আমরা তিন পয়েন্ট পেয়েছি, ৪-০ তে জিতেছি, বিশেষ করে প্রথমার্ধে বিলবাওয়ের বিপক্ষে লড়াই সহজ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে। জাল অক্ষত রাখা, চার গোল এবং তিন পয়েন্ট, আমাদের জন্য এটি ছিল নিখুঁত একটি দিন।”
স্টেডিয়াম সংস্কারের এখনও তৃতীয় স্তর এবং ছাদের কাজ বাকি। বিলবাওয়ের বিপক্ষে দর্শক ছিলেন ৪৫ হাজারের সামান্য বেশি। নতুন বছরে এই সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়ানোর আশা করছে ক্লাব, আর পুরো সংস্কার শেষ হলে ধারণক্ষমতা পৌঁছাবে রেকর্ড ১ লাখ ৫ হাজারে, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ।
প্রথমবার কাম্প নউয়ে বার্সেলোনা হয়ে খেললেন ফের্মিন, হোয়ান গার্সিয়া, পাও কুবারসির মতো তরুণরা। প্রথমবার কাতালান ক্লাবটির কোচ হিসেবে কাম্প নউয়ে দাঁড়ানোর অনুভূতি ফ্লিকের কাছেও চমৎকার।
“সিঁড়ি বেয়ে মাঠে নামার সময় সব সমর্থককে দেখা, এটা ছিল চমৎকার অনুভূতি। তৃতীয় বিভাগের একটি দল আমাকে বরখাস্ত করার পর অনেক বছর আগে আমি এখানে এসেছিলাম এবং আমি বলেছিলাম ‘একদিন আমি এই বেঞ্চে বসতে চাই।’ আজ যেন সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। আমার জন্য এটা অবিশ্বাস্য গল্প।”
“এটাই প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম করলে এবং নিজের ওপর আস্থা রাখলে সবই সম্ভব। (ম্যাচের আগে) আমি খেলোয়াড়দেরও এটাই বলেছি। আমাদের দুর্দান্ত সমর্থক আছে, দারুণ একটি ক্লাব আছে, এখন আমরা ঘরে ফিরেছি। অনুভূতিটা অসাধারণ।”