চমকপ্রদ পথচলায় ফাইনালে আসা জেসিকা পেগুলা হেরে গেলেন শেষ লড়াইয়ে, বারবার কাছে গিয়েও থমকে যাওয়া আরিনা সাবালেঙ্কা অবশেষে পেলেন ইউএস ওপেন জয়ের স্বাদ।
Published : 08 Sep 2024, 11:16 AM
জেসিকা পেগুলার শট লাইনের বাইরে আছড়ে পড়তেই কোর্টে শুয়ে পড়লেন আরিনা সাবালেঙ্কা। দু হাতে মুখ ঢাকলেন। সেভাবেই পড়ে রইলেন বেশ কিছুক্ষণ। যেন বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঘোর, কিংবা আরাধ্য কিছু পাওয়ার অনির্বচনীয় অনুভূতি! ধারাভাষ্যকার দারুণভাবে ধরতে পারলেন মুহূর্তটিকে, ‘এত বছর ধরে এত তীব্রভাবে তিনি এটি চাইছিলেন… আরিনা সাবালেঙ্কা অবশেষে জিতলেন ইউএস ওপেন…।”
যখন উঠে দাঁড়ালেন একটু পর, দেখা গেল অশ্রু ঝরছে তার গাল বেয়ে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলানো শেষে দর্শকদের দিকে হাত উঁচিয়ে দম নিলেন লম্বা করে। সেই দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে মিলিয়ে গেল যেন আক্ষেপ-হতাশার অনেক প্রহরও। কত বার তার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে এই মঞ্চে! কোর্ট থেকে এক পর্যায়ে ছুটে গেলেন তিনি গ্যালারিতে। ‘হাই-ফাইভ’ চলতে থাকল নানা জনের সঙ্গে। তার সাপোর্ট স্টাফের কাছে গিয়ে সবাইকে শক্ত করে জড়ালেন আলিঙ্গনে। কাঁদলেন মন ভরে। এই কান্না, এই সুখের জল ঝরানোর জন্য কত অপেক্ষা ছিল তার!
দুই দফায় এই আসরে তার পথচলা থমকে গেছে সেমি-ফাইনালে। গতবার ফাইনালে প্রথম সেট জিতেও পরে হেরে গেছেন আবার। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই শিরোপার স্বাদ পেলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। স্বপ্নযাত্রায় ছুটতে থাকা জেসিকা পেগুলা পেরে উঠলেন না শেষ লড়াইয়ে।
ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনালে শনিবার পেগুলাকে ৭-৫, ৭-৫ গেমে হারালেন সাবালেঙ্কা। ট্রফির পাশাপাশি তার প্রাইজমানি ৩৬ লাখ ডলার।
বেলারুশের এই তারকার এটি তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। তার আগের দুটি সাফল্যই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে, জিতেছেন গত বছর ও এই বছর।
ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে এ দিন আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের ছাদ ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই টুর্নামেন্টে আসল ঝড়ের নাম ছিল তো ‘পেগুলা।’ আগে ছয়-ছয়বার বিভিন্ন গ্র্যান্ড স্ল্যামে কোয়ার্টার-ফাইনালে আটকে গিয়েছিলেন যিনি, বয়স ৩০ পেরিয়ে তিনি প্রথমবার কোয়ার্টারের বাধা টপকে সেমি-ফাইনাল জিতে পা রাখেন ফাইনালে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নও ছিল তার সঙ্গী।
দর্শকে ঠাসা গ্যালারিতে এ দিন ছিল তারকার মেলা। বিভিন্ন আঙিনার তারকারা ভিড় করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তারকার হাতে ট্রফি দেখতে। পেগুলার সমর্থনে ম্যাচজুড়ে গলা ফাটিয়ে গেলেন দর্শকেরা। কিন্তু তিনি পারলেন না সাবালেঙ্কার প্রতিজ্ঞার কাছে।
বছরের শুরু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা ধরে রাখলেও পরের সময়টায় সাবালেঙ্কার জন্য ছিল হতাশাময়। ফরাসি ওপেনে কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে ছিটকে যান তিনি অসুস্থতায়। পরে কাঁধের চোটের কারণে খেলতে পারেননি উইম্বলডন ও প্যারিস অলিম্পিকসে। অবশেষে দুঃসময়কে পেছনে ফেলে আবার উদ্ভাসিত হলেন নিউ ইয়র্কে।
ট্রফি হাতে নিয়ে ২৬ বছর বয়সী তারকার প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠল, কতটা আকাঙ্ক্ষিত তার এই শিরোপা।
“এত এত বার ইউএস ওপেনের ট্রফি জয়ের কাছাকাছি গিয়েছি… প্রতিবারই মনে হয়েছে, এবার হবে। কিন্তু হয়নি। অবশেষে সুন্দর এই ট্রফিটি আমি পেলাম…।”
“অতীতের সব হৃদয়ভাঙা হার মনে পড়ছে আমার এবং এটা হয়তো অনেকটা নাটকীয় শোনাবে, তবে বলতে পারি যে, স্বপ্নের পেছনে ছোটায় কখনও হাল ছাড়বেন না, চেষ্টা করে যান।”
পেগুলা এ দিন ম্যাচজুড়েই ধুঁকছিলেন তার র্যাকেট নিয়ে। কোচের কাছে বারবার র্যাকেট নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা বলছিলেন। প্রথম সেটে মোটামুটি লড়াই হলেও দ্বিতীয় সেটে এক পর্যায়ে ৩-০ গেমে এগিয়ে যান সাবালেঙ্কা। এরপর তীব্র লড়াইয়ে টানা পাঁচ গেম জিতে দর্শকদের উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন পেগুলা। কিন্তু সাবালেঙ্কা হার মানেননি। ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি ঠিকই পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।
শেষটায় হতাশ হলেও পেগুলা ভেঙে পড়েননি। বরং গোটা টুর্নামেন্টে তাকিয়ে গর্বের উপকরণই পাচ্ছেন তিনি। গ্র্যান্ড স্ল্যামে প্রায় এক দশক পেরিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের বাধা পেরোতে পেরেছেন প্রথমবার, সেই যাক্রায় পৌঁছে গেছেন ফাইনালে। তিনি চমকে দিয়েছেন নিজেকেও। যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের টেরি ও কিম পেগুলার মেয়ে জেসিকা পেগুলা তাই সব মিলিয়ে সন্তুষ্টই।
“আজকে এই মঞ্চে থাকতে পেরে.. আমার প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল এবং এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এত দূর আসতে পেরে… আসলে আমি ভাবিনি এতটা পারব। কাজেই সবশেষ কয়েক সপ্তাহের জন্য আমি স্রেফ কৃতজ্ঞ।”
রানার্স আপ হয়ে ট্রফির পাশাপাশি পেগুলার প্রাপ্তি ১৮ লাখ ডলার।