১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জয়ের খুব কাছে গিয়ে আবার হোঁচট খেল লিভারপুল

হতাশাময় যাত্রায় আরও একবার অ্যানফিল্ড শিবিরে আশার আলো জ্বলেও নিভে গেল।

জয়ের খুব কাছে গিয়ে আবার হোঁচট খেল লিভারপুল
দুইবার এগিয়ে গিয়েও জিততে পারল না লিভারপুল। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Dec 2025, 02:18 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:16 PM

দুই গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় মুহূর্তের এক ভুলে গোল খেয়ে বসল লিভারপুল। পরক্ষণেই আরেকটি! জমে উঠল লড়াই। তারপরও জয়ের পথেই ছিল দলটি। কিন্তু শেষ সময়ে সবকিছু বদলে দিল লিডস ইউনাইটেড। উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে তারা রুখে দিল শিরোপাধারীদের।

লিডসের মাঠে শনিবার বারবার মোড় বদলের প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছে। 

উগো একিটিকের জোড়া গোলে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পাঁচ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল। এরপর, ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইন ও আন্টোনের গোলে সমতায় ফেরে লিডস। কিছুক্ষণ পর দমিনিক সোবোসলাইয়ের গোলে ফের এগিয়ে যায় সফরকারীরা। কিন্তু যোগ করা সময়ে তাদের থেকে পয়েন্ট বের করে নেন তানাকা।

ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া লিভারপুল লিগে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারাল। গত সপ্তাহে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে কোনোমতে হার এড়িয়েছিল দলটি।

১৫ ম্যাচে সাত জয় ও দুই ড্রয়ে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই অষ্টম স্থানে আছে লিভারপুল। তাদের উপরের দুটি দল ক্রিস্টাল প্যালেস ও সান্ডারল্যান্ডের পয়েন্টও সমান ২৩ করে; তবে প্যালেস একটি ম্যাচ কম খেলেছে।

আর ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে লিডস ইউনাইটেড।

সমান ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল।

লিডসের আঙিনায় এদিন প্রথমার্ধে তেমন কোনো উত্তেজনা ছড়ায়নি। আকর্ষনীয় ফুটবলের দেখাও মেলেনি। গোলের জন্য অবশ্য দুই দলই শট নেয় বেশ কিছু; লিভারপুল আটটি, লিডস পাঁচটি। কিন্তু এর কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না।

প্রিমিয়ার লিগে কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে এতগুলো শট নিয়েও কোনোটা লক্ষ্যে না থাকার ঘটনা দেড় বছরের বেশি সময়ে দেখা গেল প্রথমবার। এর আগে এর চেয়ে বেশি শট নিয়ে কোনোটা লক্ষ্যে না থাকার ঘটনা দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলে এভারটন-ব্রেন্টফোর্ড ম্যাচে, ১৬টি শট।

বিরতির পর পুনরায় খেলা শুরু হতেই একিটিকের নৈপুণ্যে দুই গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল।

অনায়াস জয়ে দুইয়েই রইল ম্যানচেস্টার সিটি

আর্জেন্টাইন সুপার সাব বুয়েন্দিয়ার গোলে স্তব্ধ আর্সেনাল

৪৮তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে বল পেয়ে, একজনের বাধা এড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে, নিচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন একিটিকে। দুই মিনিট পর, কনর ব্র্যাডলির ক্রসে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে বাঁ পায়ের টোকায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

লিভারপুলের জন্য সবকিছু ঠিকঠাকই এগোচ্ছিল। কিন্তু পাঁচ মিনিটে ম্যাচে নতুন মোড় নেয়।

৭০তম মিনিটে প্রথম বিপদ ডেকে আনেন দলটির ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে; ডি-বক্সে একেবারে বাইলাইনের কাছে তিনি ফাউল করে বসেন ভিলফ্রিদ নিয়োন্তোকে। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইন। দুই মিনিট পর সতীর্থের পাস ডি-বক্সে পেয়ে একজনকে কাটিয়ে, জোরাল শটে সমতা টানেন জার্মান মিডফিল্ডার আন্টোন।

সেই ধাক্কা সামলে আবার এগিয়ে যেতে অবশ্য খুব বেশি সময় লাগেনি লিভারপুলের। ডি-বক্সে থেকে শটে গোলটি করেন হাঙ্গেরির সোবোসলাই।

কিন্তু ৯ মিনিট যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে তাদের হৃদয় ভেঙে দেয় লিডস। ছয় গজ বক্সের ডান দিক থেকে জাপানের মিডফিল্ডার তানাকা বল জালে পাঠাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে যেন পুরো স্টেডিয়াম। আর একরাশ হতাশা ভর করে লিভারপুলের সবার চোখে-মুখে।