১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের আশায় ১৬ লাখ জনসংখ্যার কসোভো

আর একটি ম্যাচ জিতলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে ইউরোপের সবচেয়ে ছোট দেশটি।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Mar 2026, 01:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:16 PM

গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে সার্বিয়া শাসিত কসোভোতে ক্রীড়া ইভেন্ট ছিল নিষিদ্ধ। তখন ফুটবল ম্যাচ হতো ব্যক্তিগত পর্যায়ে। ম্যাচের পর ছোট নদীতে বা বরফ গলা জলে খেলোয়াড়রা গা ধুয়ে নিত। সেই কসোভো এখন প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার দুয়ারে। 

সার্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ২০০৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে কসোভো। ২০১৬ সালে ফিফার সদস্যপদ লাভ করে তারা। ইউরোপের সবচেয়ে ছোট দেশটি গত মঙ্গলবার প্লে-অফ সেমি-ফাইনালে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ৪-৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে জায়গা করে নেয় ফাইনালে, যেখানে মঙ্গলবার তারা খেলবে তুরস্কের বিপক্ষে। বিজয়ী দল পাবে জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের টিকেট।

কসোভোর জন্য এটি কত বড় অর্জন হবে, সেটি তুলে ধরলেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এরোল সালিহু।

“আমেরিকায় কসোভোর অংশগ্রহণ হবে ঐতিহাসিক, সত্যিই যুগান্তকারী। যারা কাদাভরা মাঠ আর তৃণভূমিতে খেলে এই খেলার সম্মান ও চেতনাকে রক্ষা করেছে, সেই প্রজন্মের জন্য এটি হবে স্বপ্নপূরণ।”

কসোভোর জনসংখ্যা ১৬ লাখ। ২০১৮ বিশ্বকাপের জন্য প্রথমবার বাছাইপর্বে খেলে তারা। সেবার ১০ ম্যাচের ৯টি হারে দলটি।

তবে ফেডারেশন যখন প্রবাসীদের মধ্য থেকে খেলোয়াড় নেওয়া শুরু করে, তখন ইতিবাচক ফল আসতে শুরু করে। এবারের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সুইডেন ও স্লোভেনিয়াকে হারিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় তারা।

কসোভোর স্বাধীনতা সংগ্রামে নিহত হয় ১৩ হাজারের বেশি মানুষ। সংঘাতে জর্জরিত দেশটিতে প্রতিটি ম্যাচকেই নতুন অর্জন হিসেবে দেখা হয়।

“এখানে মানুষ অনেক ভুগেছে, আমরা প্রত্যেকেই পরিবারের অনেক সদস্যকে হারিয়েছি। এখানে ফিরে এসে আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমাদের কর্তব্য”- বললেন কসোভোর প্রথম অধিনায়ক ও গোলরক্ষক সামির উজকানি, যিনি শৈশবে বেলজিয়ামে চলে গিয়েছিলেন।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে কসোভোর জাতীয় স্টেডিয়ামে, যেটির দর্শক ধারণক্ষমতা মাত্র সাড়ে ১২ হাজার।

ম্যাচটি ঘিরে কসোভোয় রোমাঞ্চ-উত্তেজনা তুঙ্গে। সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই। এখন কালোবাজারে ২০ গুণ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সেই টিকেট। যারা গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ পাবে না, তাদের জন্য শহরগুলোর প্রধান চত্বরগুলোতে বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হবে।

কসোভোর খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার কোনো কমতি নেই। কসোভো সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফাইনালে জিতলে এক লাখ ইউরো বোনাস দেওয়া হবে দলকে।