২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘১০-২, ১২-২, ১৪-২ স্কোরলাইনও হতে পারত’

মালদ্বীপের খেলার ধরনে বেজায় অসন্তুষ্ট বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার।

‘১০-২, ১২-২, ১৪-২ স্কোরলাইনও হতে পারত’
বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। ছবি: বাফুফে

বিডিনিউজ২৪

মোহাম্মদ জুবায়ের, গোয়া থেকে,

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 May 2026, 02:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:43 PM

মালদ্বীপের বিপক্ষে দুই গোলের জয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠার তৃপ্তি আছে পিটার জেমস বাটলারের। নষ্ট হওয়া সুযোগগুলো নিয়ে আছে অতৃপ্তিও। তবে, বাংলাদেশ কোচ সবচেয়ে বেশি অখুশি মালদ্বীপের খেলার ধরণে।

ভারতের গোয়ায় জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পথে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। 

আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর উমহেলা মারমা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।  মালদ্বীপ ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল শোধ করে দেওয়ার পর, ব্যবধান গড়ে দেন সুরভি আকন্দ প্রীতি ও কোহাতি কিসকু।

ম্যাচ জুড়েই খেলা চলেছে টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া মালদ্বীপের অর্ধে। বাংলাদেশের আক্রমণের চাপে, হালকা ট্যাকলে দলটির খেলোয়াড়দের প্রায়ই মাঠে শুয়ে পড়তে দেখা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে এসে জয় নিয়ে তুষ্টি-অতুষ্টি জানিয়ে মালদ্বীপের খেলার ধরনের কড়া সমালোচনা করলেন বাটলার। 

“আমার মনে হয়, আমরা মাঝেমধ্যে সত্যিই খুব ভালো ফুটবল খেলেছি এমন একটা দলের বিপক্ষে, যারা আসলে ফুটবল খেলতেই আসেনি। তারা কেবল মাঠে শুয়ে পড়ছিল, সময় নষ্ট করছিল এবং সত্যি বলতে তাদের কোনো ফুটবল খেলার মানসিকতাই ছিল না। তবে, আমরা যে সুযোগগুলো হাতছাড়া করেছি তা নিয়ে আমি হতাশ; সত্যিই হতাশ। আমার মনে হয়, ম্যাচটা ১০-২, ১২-২, ১৪-২ বা আপনারা যেমনটা চেয়েছিলেন, তেমনই হতে পারত।”

“এটি এমন একটি ম্যাচ ছিল, যেখানে আমাদেরকে যেকোনো উপায়ে জয়ের রেখা পার করতেই হতো। কারণ আমার মনে হয়েছে, তাদের গোলকিপার খুব ভালো খেলেছে। বাকি ১০ জন খেলোয়াড় সারাক্ষণ মাঠে নিজেদের ফেলে দিচ্ছিল এবং ম্যাচের গতি কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে, এমন রক্ষণাত্মক দলকে ভাঙতে এবং সৃজনশীল হতে আপনাকে পথ খুঁজে নিতেই হবে।”

মালদ্বীপ ম্যাচ দিয়েই অভিষেক হয়েছে মোমিতা আক্তার ও সুরভি আক্তার আরফিনের। দুজনের মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধে মোমিতাকে আর নামাননি বাটলার। সব মিলিয়ে ম্যাচে বদলি নামান চার জনকে। দলের সবার পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না, তা স্পষ্ট করেই বললেন বাংলাদেশ কোচ।

“আমি খুশি যে, আমরা শেষ পর্যন্ত জিততে পেরেছি। যদিও খুব দাপুটে জয় ছিল না, তবে আমার মনে হয়, আমরা কিছু দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছি। আজ যাদের খেলিয়েছি, তাদের মধ্যে কিছু খেলোয়াড় ভালো করেছে, আবার কয়েকজন হতাশ করেছে। মালদ্বীপ মাত্র দুটি আক্রমণ করে গোলও পেল, আমাদের কেবল একটু মনোযোগের অভাব ছিল। তবে এমনটা ফুটবলে ঘটেই থাকে।”

“আমার ২০২৪ সালের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, যখন শামসুন্নাহার জুনিয়রকে সবাই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল এবং আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে হারতে বসেছিলাম, আর একদম শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরি তার গোলেই। আপনারা জানেন, ফুটবল মাঝে মাঝে খুবই অদ্ভুত একটা খেলা হতে পারে এবং আমার মনে হয়, সবকিছুকে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিচার করা উচিত। আমরা মালদ্বীপের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন শৈলীর ফুটবল খেলেছি। তবে আমি হতাশ যে, আমরা আরও বেশি গোল করতে পারিনি, যা স্বাভাবিকভাবেই আপনাদের জন্যও হতাশাজনক।”