Published : 27 Aug 2024, 03:58 PM
মেহেদী হাসান শ্রাবণ চোট পাওয়ায় বদলি হিসেবে নামলেন আসিফ হোসেন। বাংলাদেশ তখন এগিয়ে। এরপরই গোল খেয়ে বসলেন তিনি। আত্মবিশ্বাসে স্বাভাবিকভাবেই ধাক্কা লাগার কথা তার। কিন্তু ভড়কে না গিয়ে যেন তেতে উঠলেন আসিফ। টাইব্রেকারে দুই শট ঠেকিয়ে দেখালেন চমক। দলের জয়ের নায়ক বললেন, নিজের ওপর পুরো আস্থা ছিল তার।
নেপালের ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে সোমবার সাফ অনুর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। দুই দলের নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ১-১ সমতায়।
আসাদুল মোল্লার গোলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পর ৬৯তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন শ্রাবণ। চমৎকার সব সেভে দলের ত্রাতা হয়ে ছিলেন তিনি। প্রথম পছন্দের গোলরক্ষককে হারিয়ে কিছুটা চাপে ছিল বাংলাদেশ। এরপর আসিফ যখন গোল হজম করলেন, তখন সেই পারদ উঠে গেল আরও তুঙ্গে।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। ভারতের প্রথম শট ঠেকিয়ে আসিফ বাঁচিয়ে রাখেন আশা। পরে প্রতিপক্ষের শেষ শটটিও থামিয়ে দিয়ে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি।
বদলি নামার পর গোল খেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি আসিফ। বাফুফের দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শুধু তিনি নয়, দলের সবারই তার ওপর ছিল অগাধ আস্থা।
“আমি যখন মাঠে নামি, তখন আমরা ১-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম। আমি নামার পর একটা (গোল) হজম করি। তারপরও মানসিকভাবে শক্ত ছিলাম। ম্যাচ যেহেতু ড্র আছে, টাইব্রেকারে গেলে যেন জিততে পারি, নিজের ওপর এই বিশ্বাস রেখেছি।”
“আমার সতীর্থরা একেক জন একেক কথা বলছিল, তুই পারবি, এইসব…। আমারও নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। আর আমি ওদেরকে একটা কথাই বলেছি, তোমরা পাঁচটায় পাঁচটা গোলই করো, এর মধ্যে আমি ১-২টা সেভ করব, আমার ওপর এই বিশ্বাস রাখো।”
টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে কীভাবে জিতেছিলেন আসিফ, সেটাও কিছুটা তুলে ধরনে তিনি।
“আমি স্বাভাবিক ছিলাম। আমার বিপক্ষে যে শটটা নেবে তাকে আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, আমি স্বাভাবিক আছি। আর তার সঙ্গে মেন্টাল গেম খেলতে চেয়েছি, যেন সে স্নায়ুচাপে পড়ে।”
“প্রথমটায় আমি তাকে একটু ধোঁকা দিছি, এক সাইডে দেখিয়ে আরেক সাইডে ঝাঁপ দিছি। ও আসলে এটা বোঝেনি, এই জন্যই বলের লাইনটা পেয়েছি। শেষ শটটা নেওয়ার আগে আমি ওর সঙ্গে মেন্টাল গেম করতে চেয়েছিলাম। তাকে বলছিলাম, তোমার শটটা আমি সেভ করব, এমন কিছু। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, সে একটু চাপ অনুভব করছে। এরপর সে সোজা মেরে দিল।”
চোট পাওয়া সতীর্থের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন আসিফ।
“শ্রাবনের সঙ্গে সব সময়ই কথা হচ্ছে। সে যেহেতু আমার রুমমেট ও বন্ধু, আমি মাঠ থেকে এসে সাথে সাথে তাকে আগে ফোন দিছি। সকাল বেলাও দুইবার কথা হয়েছে। ওর যেহেতু একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, তাই আমার সতীর্থ ও দেশবাসীর কাছে চাওয়া ওর জন্য দোয়া করবেন, ও যেন খুব তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরতে পারে।”
শিরোপার লড়াইয়ে আগামী বুধবার স্বাগতিক নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।