Published : 03 Apr 2026, 11:06 AM
ভিনিসিউস জুনিয়রের প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুললেন জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে উয়েফা।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের ওই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায়। পরে এক ম্যাচের জন্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয় প্রেস্তিয়ান্নিকে। রেয়ালের বিপক্ষে পরের লেগে তিনি খেলতে পারেননি।
ঘটনার দেড় মাস পর আর্জেন্টাইন টিভি তেলেফেকে প্রেস্তিয়ান্নি বললেন, তার সঙ্গে অন্যায় করেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
“আমি কখনও বর্ণবাদী ছিলাম না এবং কখনও হবও না। আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি, এমন কিছুর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা আমি করিনি। এমন কিছু আমি মোটেও বলিনি। তারা আমাকে প্রমাণ ছাড়াই শাস্তি দিয়েছে।”
“ফিরতি লেগে খেলতে না পারায় খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। তবে ব্যাপারটা এখন শেষ।”
ওই ম্যাচের ৫০তম মিনিটে অসাধারণ এক গোল করেন ভিনিসিউস। গোলের পর কর্নার স্ট্যান্ডের কাছে গিয়ে নেচে উদযাপন করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সেই উদযাপনের কারণে তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। কার্ড দেখে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি। এর পরপরই বর্ণবাদের অভিযোগের ঘটনার সূত্রপাত। ভিনিসিউস ও তার সতীর্থদের অভিযোগে খেলা বন্ধ করে দেন রেফারি।
ঘটনার সময়ের টিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ দিয়ে জার্সি ঢেকে কিছু একটা বলছেন প্রেস্তিয়ান্নি। সেই কথা শুনেই তেতে ওঠেন ভিনিসিউস ও আশেপাশে থাকা তার সতীর্থরা। সেখানে ছিলেন এমবাপেও। সেই সময়ের ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে, প্রেস্তিয়ান্নির মুখের ওপর তাকে ‘ব্লাডি রেসিস্ট’ বলছেন এমবাপে।
ফরাস এই তারকা ম্যাচের পর সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “বেনফিকার ২৫ নম্বর, তার নামও মুখে আনতে চাই না, কারণ এটা তার প্রাপ্য নয়…সে জার্সিতে মুখ ঢেকে ৫ বার বলেছে ‘ভিনি একটা বানর’,, আমি শুনেছি এটা… এই ফুটবলার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্য নয়।”
এই ঘটনায় প্রেস্তিয়ান্নি বিরুদ্ধে উয়েফার তদন্ত চলমান রয়েছে। ইএসপিএন-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে উয়েফা জানায়, তদন্ত চলমান থাকায় প্রেস্তিয়ান্নির অভিযোগ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।
বর্ণবাদের অভিযোগকে প্রেস্তিয়ান্নি বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে বেনফিকা।
“আমার ক্লাবের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমি, যারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে এবং সর্বতোভাবে আমাকে সমর্থন করেছে। ক্লাব ও আমার সতীর্থরা আড়ালে আমার পাশে থেকেছে। (বেনফিকার কোচ) জোসে মরিনিয়ো একজন অসাধারণ মানুষ। বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য আমি তার সঙ্গে এবং সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলেছি।”
“আমি এটা জেনে নিশ্চিন্ত যে, যারা আমাকে চেনে, তারা জানে আমি কেমন মানুষ এবং এটাই আমার জন্য যথেষ্ট।”
২০ বছর বয়সী উইঙ্গারের এখন লক্ষ্য বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া।
“আমার স্বপ্ন বিশ্বকাপে খেলা। সুযোগটি পাওয়ার জন্যই প্রতিদিন চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই দলে একটি জায়গার জন্য লড়াই করাটাও আনন্দের। আমার মনে হয়, বেনফিকাতে বেশ ভালোভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।”
গত নভেম্বরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় তার। সম্প্রতি মৌরিতানিয়া এবং জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে তিনি থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি।