১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে আমরা ইতিহাস গড়তে পারি’ সেরা হয়ে বললেন ইমরানুর

চোট কাটিয়ে ট্র্যাকে ফিরে দ্রুততম মানবের মুকুট ফিরে পাওয়া ইমরানুর রহমান এখন দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে আলো ছড়াতে মুখিয়ে আছেন।

‘দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে আমরা ইতিহাস গড়তে পারি’ সেরা হয়ে বললেন ইমরানুর
১০ দশমিক ৬৪ সেকেন্ড টাইমিং করে সেরা ইমরানুর। ছবি: অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2025, 08:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:37 PM

চোট, অস্ত্রোপচার মিলিয়ে প্রায় আট মাস ছিলেন অনুশীলনের বাইরে। সবশেষ জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে অংশ নিতে পারেননি। সামার অ্যাথলেটিক্সে ফিরেই ট্র্যাকে আলো ছড়ালেন ইমরানুর রহমান। দ্রুততম মানবের মুকুট ফিরে পাওয়ার পর ইংল্যান্ড প্রবাসী এই অ্যাথলেট এখন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন দক্ষিণ এশিয়ান গেমস নিয়ে।

১০০ মিটার স্প্রিন্টে শুক্রবার ১০ দশমিক ৬৪ সেকেন্ড টাইমিং নিয়ে সেরা হন ইমরানুর। তার মতো সেরার মুকুট ফিরে পেয়েছেন সুমাইয়া দেওয়ান, তিনি দৌড় শেষ করেন ১২ দশমিক ১৯ সেকেন্ডে। 

সুমাইয়াও এখন তাকিয়ে আগামী জানুয়ারিতে পাকিস্তানে হতে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের দিকে।

“আমার পরিশ্রম সফল হয়েছে। আরও কঠোর পরিশ্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, এবার প্রথম হব। ইনশাল্লাহ হয়েছি। সামনে এসএ গেমস অবশ্যই ভালো কিছু করব। আরও পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করার, সব বাধা পেরুনোর চেষ্টা করব।”

প্যারিস অলিম্পিকস থেকে নানা কারণে বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন ইমরানুর। ফেডারেশন কর্মকর্তাদের চাপে চোট গোপন করে দৌড়াতে হয়েছিল, এমন অভিযোগও করেছিলেন। এরপর চোট হানা দিয়েছিল শরীরে। অস্ত্রোপচারের কারণে লম্বা সময় ছিলেন অনুশীলনের বাইরে। দ্রুততম মানবের খেতাব জিতে ইমরানুর পিছু ফিরে তাকালেন।

ইমরানুর রহমান ও সুমাইয়া দেওয়ান

ইমরানুর রহমান ও সুমাইয়া দেওয়ান

“আলহামদুলিল্লাহ, আমি নৌবাহিনীর জন্য জিতেছি। তারা আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। আমার ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে দৌড়ানোর জন্য তারা আমাকে কোনো চাপ দেয়নি, যেটা আমি মনে করি, তাদের উদারতা। আপনারা জানেন, প্যারিস অলিম্পিকসের পরের সময়টা আমার জন্য কঠিন ছিল।”

“চোটেও পড়েছিলাম। অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ছয়-আট মাস বাইরে ছিলাম। আমি হাঁটতে পারিনি, জগিং করতে পারিনি। ওই সময় নিজেকেই জিজ্ঞেস করতাম, কবে আবার দৌড়াতে পারব? মনে সন্দেহ জাগত, আদৌ আর দৌড়াতে পারব কিনা? শরীর কী সবকিছু সয়ে নিতে পারবে? তবে সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমি আবার দৌড়ানোর সুযোগ পেয়েছি, যেটা অসাধারণ অনুভূতির।” 

এবারের টাইমিং নিয়েও তেমন মাথাব্যাথা ছিল না ইমরানুরের। তিনি কেবল চেয়েছিলেন ট্র্যাকে ফিরতে। ৩২ বছর বয়সী বয়সী এই অ্যাথলেটের ভাবনা জুড়ে এখন সামনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো।

“এটা ছিল আমার ফিরে আসার দৌড়। আমি শুধু চেয়েছি ঠিকঠাকভাবে দৌড়টা শেষ করতে। টাইমিং, জয়-এগুলো আমার ভাবনায় খুব একটা ছিল না। শুধু চেয়েছিলাম ভালোভাবে দৌড় শেষ করতে। অবশ্যই, সামনে বেশ কিছু ইভেন্ট আছে। ইসলামিক গেমস আছে, সাউথ এশিয়ান গেমস আছে। তবে আমি ধাপে ধাপে এগুতে চাই।”

“আবার অনুশীলন শুরু করব, যে ট্রেনিংগুলো করতে পারিনি (চোটের সময়ে) সেগুলোর দিকে মনোনিবেশ করব। কেননা, আমি অনুভব করছি, আমি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নই। অবশ্যই আমাদের মূল লক্ষ্য সাউথ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা। ইনশাল্লাহ। দেশের সবার সমর্থন, নৌবাহিনীর এবং ফেডারেশনের সমর্থন, যেটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, এগুলো পেরে আমি নিশ্চিত, সাউথ এশিয়ান গেমসে আমরা ইতিহাস গড়তে পারি।”