Published : 05 Dec 2025, 06:46 PM
এমএলএস কাপের দুই ফাইনালিস্ট ঠিক হওয়ার পর থেকেই ‘লড়াইয়ের মধ্যে লড়াইয়ে’ উঠে এসেছে লিওনেল মেসি ও টমাস মুলারের নাম। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে কত স্মরণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন তারা। জয়ের পাল্লা ভারী মুলারের দিকেই। সেই ধারা আরও সমৃদ্ধ করে, মেসির ইন্টার মায়ামিকে হারিয়ে, ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে প্রথম শিরোপা এনে দিতে চান এই জার্মান ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার ভোরে এমএলএস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে মায়ামি ও ভ্যাঙ্কুভার। যে দলই জিতুক, নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার।
দুই দল যে ঘরানার ফুটবল খেলে, তাতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন মুলার।
“আমি মনে করি, এটা দারুণ এক ম্যাচ হবে। আমি জানি, আপনারা, গণমাধ্যম এবং হয়তো এমএলএসও মেসির সঙ্গে আমার এবং আরও বড় নাম জুড়ে দিয়ে লড়াইটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে চাইছেন, এটা বোধগম্য। তবে এটা আসলে দুই দলের লড়াই, যাদের খেলার ধরণ খুব আকর্ষণীয় ও দর্শনীয়। আমার চোখে, এটা নিখুঁত ফাইনাল। এর অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।”
দীর্ঘ সময়ের প্রতিপক্ষে মেসি, জর্দি আলবা, সের্হিও বুসকেতস, লুইস সুয়ারেসদের মুখোমুখি হবেন মুলার। বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানির হয়ে ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ে তাদের বিপক্ষে অনেকবার খেলেছেন তিনি। ২০১৯-২০ মৌসুমে মেসির বার্সেলোনার বিপক্ষে সবশেষ মুখোমুখি হন মুলার, সেই ম্যাচে বায়ার্ন জিতেছিল ৮-২ গোলে।
ইউরোপীয় ফুটবলে মুলার শেষবার মেসির বিপক্ষে খেলেন ২০২৩ সালের ৮ মার্চ। সেই সময় আর্জেন্টাইন মহাতারকা খেলতেন পিএসজিতে। সেই সব স্মৃতি ভালোভাবেই মনে আছে মুলারের।
“আমার দিক থেকে সবসময়ই পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া চমৎকার ব্যাপার। আমরা ততটা ঘনিষ্ট নই, তবে আমি সবসময়ই তাদের খেলা দেখি এবং তারা অসাধারণ খেলোয়াড়। কেউ কেউ এখনও সেই পর্যায়েই আছে। তাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে পেছন ফিরে তাকালে দারুণ অনুভূতি কাজ করে।”
“ফল বা ম্যাচের কথা বললে, অতীতে যা ঘটেছে তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে তাদের বিপক্ষে মাঠে নামা হবে দারুণ ব্যাপার।”
মেসি খেলেছেন, এমন ম্যাচে মুলারের রেকর্ড দারুণ; সাত জয়ের বিপরীতে হার কেবল তিনটি। ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতেছিল মুলারের জার্মানি। পরের বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা জেতে ১-০ ব্যবধানে।
ওই দুই ম্যাচেই পরাজিত দলে ছিলেন মায়ামির বর্তমান কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো। নতুন লড়াইয়ের আগে মুলারকে নিয়ে বেশ মজাই করলেন এই আর্জেন্টাইন।
“তাকে নিয়ে আমার কোনো ভালো স্মৃতি নেই। জাতীয় দল ও ক্লাব মিলিয়ে অনেক বছর ধরে তার মুখোমুখি হয়েছি আমি। সে তার প্রজন্মের সেরা খেলোয়াড়দের একজন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং বায়ার্নের হয়ে সে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতেছে। সে এমন একজন খেলোয়াড় যে ভিন্নমাত্রার খ্যাতি নিয়ে এসেছে, কেবল ভ্যাঙ্কুভার নয়, বড় পরিসরে লিগ ও এমএলএসের জন্যও। সত্যিকারের এক গ্রেট। আশা করি, কাল (রোববার) ভাগ্য আমাদের পক্ষে থাকবে।”
এসব রেকর্ড এবং অতীত জয়ের কোনো প্রভাব এখন নিজের আত্মবিশ্বাসে পড়বে বলে মনে করেন না মুলার।
“অতীতের দিকে তাকালে আমি তৃপ্তি অনুভব করি, কারণ এগুলো এরই মধ্যে ইতিহাসের অংশ। নিজ দলের সঙ্গে আমার অনেক দারুণ অভিজ্ঞতা আছে, তাই এগুলো আনন্দের। তবে শনিবারের ম্যাচে এগুলো কোনো ব্যাপার নয়।”
“এটা নতুন একটা ম্যাচ। আপনার মনে হতে পারে, কাউকে হারানোর ব্যাপারে সবসময়ই আমি আত্মবিশ্বাসী থাকি কিংবা ব্যক্তি বা দল হিসেবে কারও সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আত্মবিশ্বাসী থাকি। তবে আত্মবিশ্বাসী থাকতে আমার নিজের ইতিহাসের ততটা প্রয়োজন নেই এই দলের অন্যদের জন্যও ব্যাপারটা একই রকম। কারণ, তারা ইন্টার মায়ামির বিপক্ষে এই মৌসুমে দুইবার জিতেছে। তবে এর অর্থ কী? এটা আপনাকে অল্প একটু ভালো অনুভূতি দেবে; কিন্তু দিনশেষে (ফাইনালের ফল) মাঠেই নির্ধারিত হবে।”
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ সেমি-ফাইনালে মায়ামির মুখোমুখি হয় ভ্যাঙ্কুভার। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলের অগ্রগামিতায় ফাইনালে জায়গা করে নেয় মুলারের দল।