১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোপা লড়াইয়ে জোর ধাক্কা খেল রেয়াল মাদ্রিদ

সাদামাটা পারফরম্যান্সে শীর্ষস্থান থেকে আরও বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়ল আলভারো আরবেলোয়ার দল।

শিরোপা লড়াইয়ে জোর ধাক্কা খেল রেয়াল মাদ্রিদ
টানা পাঁচ জয়ের পর হারের স্বাদ পেল রেয়াল মাদ্রিদ। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Apr 2026, 11:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:18 PM

লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানে বার্সেলোনার ওপর চাপ ধরে রাখতে জিততেই হতো রেয়াল মাদ্রিদের। কিন্তু অবনমনের শঙ্কায় থাকা মায়োর্কার বিপক্ষে উল্টো হেরে গেল আলভারো আরবেলোয়ার দল।

প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার লা লিগার ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছে প্রতিযোগিতার সফলতম ক্লাবটি।

মানু মর্লানেসের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, শেষ দিকে সমতা ফেরান চোট কাটিয়ে ফেরা এদের মিলিতাও। কিন্তু তিন মিনিটের মধ্যে আবার গোল হজম করে হেরে বসে রেয়াল।

পজেশন রাখায় অনেকটা পিছিয়ে খেকে গোলের জন্য ছয় শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে রেখেই বাজিমাত করল মায়োর্কা। অবশ্য তাদের দুই গোলের পেছনেই দায় আছে রেয়ালের রক্ষণের। তাদের আক্রমণভাগও ছিল বর্ণহীন; প্রতিপক্ষকে খুব বেশি ভাবাতেই পারেনি তারা। দলটির ১৫ শটের ছয়টি লক্ষ্যে ছিল।

টানা পাঁচ জয়ের পর হারের স্বাদ পেল রেয়াল মাদ্রিদ।

চলতি আসরে রেয়ালের এটা পঞ্চম হার। ৩০ ম্যাচে ২২ জয় ও তিন ড্রয়ে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে তারা। শীর্ষে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭৩, একটি ম্যাচ কমও খেলেছে দলটি।

আর স্মরণীয় এই জয়ে অবনমন অঞ্চল থেকে আপাতত বেরিয়ে এসেছে মায়োর্কা। ৩০ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে তারা।

অবনমন অঞ্চলের দলের বিপক্ষে শুরু থেকে আক্রমণে আধিপত্য করলেও, পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে ভুগছিল রেয়াল। ২৫তম মিনিটে এ পর্যন্ত সেরা সুযোগটি পান কিলিয়ান এমবাপে; কিন্তু এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার থ্রু বল ধরে তার নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক।

আট মিনিট পর আরেকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। এবার আর্দা গিলেরের শট আটকে ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন গোলরক্ষক রোমান। ওখান থেকে পাল্টা আক্রমণে উঠে সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় স্বাগতিকরা; কিন্তু গোলমুখে ফাঁকায় বল পেয়েও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মর্লানেস।

দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট প্রচেষ্টার পর, ৪২তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিয়েই এগিয়ে যায় মায়োর্কা। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে, ঠাণ্ডা মাথায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। কাছেই ছিলেন আন্টোনিও রুডিগার, কিন্তু যথেষ্ট তৎপর হতে পারেননি তিনি।

বিরতির পর আরও বেশি সময় বল দখলে রেখে আক্রমণ শাণাতে থাকে রেয়াল। কিন্তু পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। নতুন শক্তি যোগ করতে ৫৯তম মিনিটে একসঙ্গে ভিনিসিউস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম ও এদের মিলিতাওকে নামান রেয়াল কোচ।

প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ ধরে রাখলেও, উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারছিলেন না এমবাপে-ভিনিসিউসরা।

অবশেষে ৮৮তম মিনিটে কর্নারে দারুণ হেডে দলকে সমতায় ফেরান মিলিতাও। পেশির চোটে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন এই ব্রাজলিয়ান ডিফেন্ডার।

এবারের লিগে ঘরের মাঠে আগে যে ছয়টি ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গেছে মায়োর্কা, তার কোনোটিতেই হারেনি তারা (পাঁচটি জয় ও একট্রি ড্র)।

সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন ভেদাত মুরিকি। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন কসোভোর স্ট্রাইকার।

লা লিগায় রেয়ালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে এই নিয়ে সবশেষ ছয় ম্যাচের তিনটিতে জিতল মায়োর্কা।