সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 13 Jul 2025, 09:22 PM
শিখা জাহান ও সাগরিকার গোলে বিরতিতে গেল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সাগরিকা লাল কার্ড পাওয়ার পর ছন্দ হারিয়ে ফেলে তার দল। সেই সুযোগে গোল দুটি শোধ করে ড্রয়ের সম্ভাবনা নেপাল জাগায়। কিন্তু শেষ দিকে বাংলাদেশকে উচ্ছ্বাসে ভাসালেন তৃষ্ণা রানী।
ভারতের অনুপস্থিতিতে সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী নেপাল। রাউন্ড রবিন লিগে এই দুই দলের প্রথম দেখায় লড়াইও হলো জমজমাট। কিংস অ্যারেনায় রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ।
টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে শীর্ষে পিটার জেমস বাটলারের দল।
সাগরিকার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কাকে ৯-১ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করা বাংলাদেশ মঙ্গলবার তৃতীয় ম্যাচে খেলবে ভুটানের বিপক্ষে। নেপালের বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখা সাগরিকা খেলতে পারবেন না এই ম্যাচ।
নেপালের বিপক্ষে এদিন শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা মেলে ধরে বাংলাদেশ। পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করতে থাকে ভুটানকে ৬-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করা নেপালও। তাতে শুরু থেকেই মেলে জমজমাট লড়াইয়র ইঙ্গিত।
একাদশ মিনিটে তালগোল পাকিয়ে গোল হজম করতে বসেছিল বাংলাদেশ। জয়নবের ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে শট নিয়েছিলেন স্বর্ণা রানী মন্ডল, সামনে থাকা নেপালের সুকরিয়া মিয়ার গায়ে লেগে অল্পের জন্য বল লক্ষ্য থাকেনি।
দুই মিনিট পরই শিখা জাহানের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা সাগরিকার পাস ধরে পায়ের কারিকুরিতে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নেন মুনকি আক্তার, গোললাইন থেকে রোকিয়ায়া গঙ্গা ফিরিয়ে দেওয়ার পর দূরের পোস্টে অরক্ষিত শিখা ফিরতি শটে জাল খুঁজে নেন।
একটু পর জয়নবের লম্বা শট আটকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নেপাল গোলরক্ষক। একই সময়ে শট নিতে ছুটে যান সাগরিকাও। তাতে দুজনের সংঘর্ষে চোট পান শ্রীলঙ্কা ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ড। চিকিৎসা নিয়ে অবশ্য দ্রুতই খেলায় ফেরেন তিনি।
২৬তম মিনিটে বিপদের আশঙ্কায় বক্সের একটু ওপরে নেপালের সেনু পারিয়ারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পুজা দাস। আনিশা রায়ের ফ্রি কিক ক্রসবারের উপরের দিকে লাগে।
ব্যবধান দ্বিগুণ হয় ৩৬তম মিনিটে। শান্তি মার্দির লম্বা ক্রসে ছোট বক্সের ভেতর থেকে শিখার দুটি শটই আটকান নেপাল গোলরক্ষক সুজাতা, কিন্তু গ্লাভসে জমাতে পারেননি তিনি। আলগা বল টোকায় জালে জড়ান পাশেই থাকা সাগরিকা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে স্বর্ণাকে একা পেয়ে যান নেপালের ফরোয়ার্ড মিনা দেউবা। তার শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে আঙুলের টোকায় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন স্বর্ণা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন সাগরিকা। গতিতে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে গোলকিপারকে একাও পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বলে স্পর্শ জোরে হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শটই নিতে পারেননি। ৫২তম মিনিটে শিখাও গোলকিপারকে একা পেয়ে উড়িয়ে মেরে নষ্ট করেন আরেকটি সুযোগ।
৫৫তম মিনিটে আক্রমণে ওঠা সাগরিকাকে ফাউল করেন নেপালের সিমরান, এক পর্যায়ে সাগরিকার মাথা ও চুল টেনে ধরেন তিনি। তাতে শুরুতে উত্তেজনা ছড়ায় দুজনের মধ্যে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষেই। সাগরিকা ও সিমরান দুজনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। এরপর থেকে পথ হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
একটু পরই আফিঈদা ও বন্যাকে তুলে তৃষ্ণা রানী ও রুমা আক্তারকে নামান বাংলাদেশ কোচ। ৭৪তম মিনিটে সুযোগ আসে শিখার সামনে, কিন্তু গোলরক্ষকে একা পেয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে তার লক্ষ্যভেদের চেষ্টা ছুটে এসে ক্লিয়ার করেন আনিশা।
পরের মিনিটে মিনার শট ছুটে গিয়ে আটকাতে চেষ্টা করেন স্বর্ণা, কিন্তু পারেননি। মিনার ফিরতি শট রুমা ক্লিয়ার করার আগেই তাকে পেছন থেকে ফাউল করে বসেন জয়নব। রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। আনিশা রায়ের লক্ষ্যভেদে ম্যাচে ফেরে নেপাল।
এরপর শান্তি ও শিখাকে তুলে উমহেলা মারমা ও অয়ন্ত বালাকে নামান বাটলার।
৮৬তম মিনিটে সমতায় ফেরে নেপাল। পুর্ণিমার আড়াআড়ি ক্রস বুটের তলার টোকায় স্বর্ণাকে পরাস্ত করেন মিনা।
যোগ করা সময়ে ফ্রি কিক ফেরাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে বসেন স্বর্ণা। বল গ্লাভস গলে বেরিয়ে যাওয়ার পর নেপালের পুর্ণিমা টোকা দিতে পা চালিয়েছিলেন, তবে নাগাল পাননি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গ্লাভসে জমান স্বর্ণা। ওই সময় বাম পায়ের হাঁটুতে ব্যথা পান তিনি। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে স্বর্ণা পোস্টে ফিরলে স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশের ডাগআউটে।
শেষের বাঁশি বাজার মুহূর্ত আগে জয়সূচক গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে উমহেলার আড়াআড়ি ক্রস নিখুঁত টোকায় জালে জড়িয়ে দেন তৃষ্ণা। সম্ভাব্য ড্রয়ের হতাশা ঝেড়ে জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতে বাংলাদেশ।