২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 31 Mar 2026, 08:28 AM
চারটি স্থানের জন্য লড়াইয়ে আট দল। উয়েফা প্লে-অফ ফাইনাল দিয়ে ঠিক হবে বিশ্বকাপে ইউরোপের শেষ চারটি দল। লড়াইয়ের ভেতরে যে লড়াইগুলো গড়ে দিতে পারে ব্যবধান, সেগুলো সামনে এনেছে ফিফা।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-ইতালি
এদিন জেকো সান্দ্রো তোনালি
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে ইতালির নায়ক ছিলেন তোনালি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জোরাল শটে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর মোইজে কিনের গোলে অবদান রাখেন তিনি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মঙ্গলবারের লড়াইয়েও এই মোমেন্টাম ধরে রাখতে চাইবেন নিউক্যাসল ইউনাইটেড তারকা।
সেখানে তোনালি মুখোমুখি হবেন সেমি-ফাইনালে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখানো ৪০ বছর বয়সী জেকোর। ওয়েলসের বিপক্ষে ৮৬তম মিনিটে লাফিয়ে উঠে দারুণ হেডে তিনি খুঁজে নেন জাল, বুঝিয়ে দেন ডি বক্সে এখনও তিনি আগের মতোই কার্যকর। এখন শালকেতে খেলা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে ইতালির ক্লাব রোমা, ইন্টার মিলান ও ফ্লোরেন্তিনায়। ঘরের মাঠে তিনি কি ভাঙতে পারবেন চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হৃদয়?
সুইডেন-পোল্যান্ড
ভিক্তর ইয়োকেরেশ-রবের্ত লেভানদোভস্কি
বিশ্বকাপে জায়গা পেতে সুইডেন ও পোল্যান্ডের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই চৌকস স্ট্রাইকার ইয়োকেরেশ ও লেভানদোভস্কি।
ইউক্রেনের বিপক্ষে সু্ইডেনের জয়ে ইয়োকেরেশ ছিলেন অদম্য। ৩-১ গোলের জন্য আর্সেনালের এই তারকা করেন হ্যাটট্রিক। জাতীয় দলের কোচ গ্রাহাম পটারের কাছে তিনি ‘অবিশ্বাস্য।’ ইউক্রেইন কোচ সের্হিই রেবরভের কাছে ইয়োকেরেশ ‘ইউরোপের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন।’
নিশ্চিতভাবেই সেরার তালিকায় থাকাদের একজন লেভানদোভস্কি। আধুনিক সময়ের একজন সত্যিকারের গ্রেট। আলবেনিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়া দলকে সমতায় ফেরান বার্সেলোনার এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। এখন তার দৃষ্টি তৃতীয় বিশ্বকাপের দিকে।
কসোভো-তুরস্ক
ফিজনিক আসলানি-আর্দা গিলের
স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে কসোভোর দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত পাফরম্যান্সের প্রাণ ছিলেন আসলানি। বিরতির সময় ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল তার দল। হফেনহাইম ফরোয়ার্ড চমৎকার হেডে দলকে সমতায় ফেরান। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় কসোভো। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলা থেকে দলটি এখন কেবল এক জয় দূরে।
তাদের সামনে বাধা হয়ে থাকা তুরস্ক দলেও আছে দুর্দান্ত এক ফুটবল প্রতিভা- গিলের। রোমানিয়ার বিপক্ষে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটির সুযোগ রক্ষণচেরা অসাধারণ এক পাসে তৈরি করে দেন রেয়াল মাদ্রিদ তারকা। ২১ বছর বয়সী গিলেরের ক্যারিয়ারে নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে বড় ম্যাচ হতে যাচ্ছে মঙ্গলবারের লড়াইটি। সেখানেও ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো জাদুকরী মুহূর্ত গড়ে দিতে পারবেন এই তরুণ?
চেক প্রজাতন্ত্র-ডেনমার্ক
লাজিস্লাভ ক্রেইচি-মিকেল ডামসগার্ড
সেমি-ফাইনালে দুই রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে এই দুই দলের। উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে সহজেই ৪-০ গোলে জিতেছে ডেনমার্ক। আর রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া চেক প্রজাতন্ত্র শেষ পর্যন্ত জিতেছে টাইব্রেকারে।
ওই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে চেক প্রজাতন্ত্রকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক ক্রেইচি। ৮৬তম মিনিটে সমতা ফিরিয়ে তিনিই বাঁচিয়ে রাখেন দলের আশা। ডেনমার্কের বিপক্ষেও এই ডিফেন্ডারের হয়তো প্রয়োজন হবে নিজের সেরা ফুটবলের।
ডেনমার্কের দারুণ শক্তিশালী আক্রমণভাগে আছেন ব্রেন্টফোর্ড ফরোয়ার্ড ডাসমগার্ড। সেমি-ফাইনালে জয়ের পথে তার গোলই বেঁধে দেয় সুর। দেশের হয়ে শেষ ছয় ম্যাচের চারটিতেই তিনি পেয়েছেন জালের দেখা।