২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 13 May 2026, 08:11 PM
তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলছিল আর্জেন্টিনার অজেয় যাত্রা। ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের মুখোমুখি হয়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। লিওনেল মেসির গোলে এগিয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু, দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদের হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেয় সৌদি আরব। আরেকটি বিশ্বকাপের সামনে দাঁড়িয়ে দলটির ডিফেন্ডার সাউদ আব্দুলহামিদ বললেন, সেই জয়ের স্মৃতি কখনও ভুলবে না সৌদি আরব।
এশিয়ার দেশটির সেই জয় বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনের একটি। স্বপ্নের মতো শুরুর পরও অবশ্য বিশ্বকাপ ভালো কাটেনি সৌদি আরবের। নকআউট পর্বে যেতে পারেনি তারা।
অন্যদিকে, দুঃস্বপ্নের শুরুর পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে তৃতীয় শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
পরে যাই ঘটুক, ফুটবলের চিরকালের গল্পগাঁথার অংশ হয়ে গেছে সৌদি আরবের সেই জয়। ১৯৯৪ সালের পর, প্রথমবার নকআউট পর্বে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এবার ‘এইচ’ গ্রুপে উরুগুয়ে, স্পেন ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলবে তারা।
ফিফার মুখোমুখি হয়ে ইউরোপে খেলা ও আগামী বিশ্বকাপের প্রত্যাশা নিয়ে বললেন আব্দুলহামিদ। অবধারিতভাবেই এলো সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ। বললেন সেই জয়ের অনুভূতি নিয়ে।
“অনুভূতি অবিশ্বাস্য। তারা খুবই শক্তিশালী দল ছিল এবং বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছে। তাই আর্জেন্টিনার মতো বড় দলকে যখন আপনি হারাবেন, তখন অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি হবে। এটা বিশাল ব্যাপার, আমরা ওই সময়ে ভীশণ খুশি ছিলাম। তাই সেই সময়টা ভুলে যাওয়া যে কারো জন্যই অসম্ভব।”

লুসাইল স্টেডিয়ামে দশম মিনিটে সফল স্পট কিকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন মেসি। পরে কয়েকবার জালে বল পাঠালেও গোল পায়নি দলটি। বিরতির সময়টায় ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতি কী ছিল, বললেন রোমা থেকে এখন ধারে লঁসে খেলা সৌদি ডিফেন্ডার।
“পরিস্থিতি কিছুটা জটিল ছিল, কারণ প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার আরও দুটি গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়েছিল। কোচ এই ব্যাপারে খুশি ছিলেন না। নিজেদের উজাড় করে দিয়ে খেলার কথা বলেছিলেন তিনি এবং আমরা যেভাবে সবসময় খেলি সেভাবে খেলতে বলেছিলেন। তাদের দলে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মেসি ছিল, তাই তাদের বিপক্ষে আমাদের নিজেদের সবটুকু দিতে হতো। এটা আমাদের এমনভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল যা আমি বর্ণনা করতে পারব না। তবে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, আমরা জিততে পেরেছিলাম।”
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সালেম আল-শেহরি সমতা ফেরান। পাঁচ মিনিট পর সৌদি আরবকে এগিয়ে নেন সালেম আল-দাওসারি। সেই সময়টায় ফিরে গেলেন আব্দুলহামিদ।
“এটা ছিল অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। সালেম যখন গোল করে স্কোরলাইন ২-১ করে ফেলল, তখন মনে হয়েছিল সারা পৃথিবী যেন আমাদের সমর্থন করছে। ভক্তদের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে- আপনি কাউকে সে সময় বসে থাকা দেখতে পাবেন না- মুহূর্তটা ছিল পাগলাটে।”
“আমরা খুশিতে যেন উড়ছিলাম। আমরা জানতাম, আমরা কোথায় যাচ্ছি, আমরা খুব খুশি ছিলাম। দারুণ এক অনুভূতি ছিল এবং আশা করি, এই বিশ্বকাপে এর পুনরাবৃত্তি করতে পারব। সে (আল দাওসারি) দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। সে আমাদের অনেক সাহায্য করে এবং আমরাও তাকে সাহায্য করি। আক্রমণে সমস্যার সমাধান এবং দলকে অনুপ্রাণিত করার সামর্থ্য তার আছে।”