ফরিদপুরে জমে উঠছে ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকান

ছুটিরদিন শুক্রবার শহরের নিউ মার্কেট ও বেইলি ব্রিজের আশেপাশের ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা গেছে।

ফরিদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Dec 2023, 12:37 PM
Updated : 8 Dec 2023, 12:37 PM

ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে দুইদিনের বৃষ্টির পর জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। শেষ রাতের শীতল আবহাওয়ায় গায়ে কাঁথা বা চাদর মোড়াতে হচ্ছে ফরিদপুরবাসীকে।

সেই সুবাদে ফরিদপুরে জমতে শুরু করেছে ফুটপাতসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্রের বাজার।

প্রতিবছর শীতে শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়, ইমাম উদ্দিন স্কায়ার, থানা রোড়, মহাখালী পাঠশালা মোড় এলাকায় ফুটপাতে সারি সারি শীতবস্ত্রের অস্থায়ী হাট বসে। এ সব দোকানে দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

সাপ্তাহিক ছুটিরদিন শুক্রবার ‌ফরিদপুর শহরের নিউ মার্কেট নকশি কাঁথা ও বেইলি ব্রিজের আশেপাশের ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।

শীতবস্ত্র কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, ‘কম দামের’ কারণে সব শ্রেণীর মানুষ এখান থেকে কেনাকাটা করতে পারেন। অল্প টাকাতেই ‘অনেক’ পণ্য কিনতে পারেন তারা। তাছাড়া ফুটপাতের হলেও পণ্যগুলো ‘মানসম্মত’।

ফরিদপুর শহরের ইমামউদ্দিন স্কয়ারে ফুটপাতে শীতের পোশাক কিনতে আসা নমডাঙ্গীর হরিপদ মালো বলেন, “স্বল্প দরে কিনতে এখানে এসেছি। বেশ ভাল ভাল শীতের কাপড় উঠেছে দেখলাম।”

আলীপুরের রিকশাচালক কমির মোল্লা বলেন, “সন্ধ্যার পর রিকশা চালাইলে ঠাণ্ডায় ধরে, এ জন্য ভালো একটা শীতের কাপড় নিতে এসেছি । তবে আমার কাছে মনে হয়, দাম একটু বেশি চাইছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, শহর ও শহরতলী ছাড়াও গ্রামের নিম্ন আয়ের লোকজনও আসছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। তাদের সঙ্গে মধ্য আয়ের মানুষও রয়েছেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও লাইন ধরে কিনছেন নানা ধরনের শীতের পোশাক।

বেশিরভাগ পোশাক বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে ৫’শ টাকার মধ্যে। এর মধ্যে শিশু ও নারীদের মোজা, কান টুপি এবং বড়দের সোয়েটার, জ্যাকেট রয়েছে।

বাজারের বড় বড় শপিংমল থেকে একটু ‘কম দামে’ পাওয়ায় ক্রেতাদের থেকে সাড়া ‘ভাল’ মিলছে বলে ফুটপাতের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান।

শহরের মহাখালী পাঠশালা এলাকার ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, “শীত বাড়লেই বেচাকেনা বেশি হয়। আর বেচাকেনা বেশি হলে, একটু কম লাভ হলেও পণ্যটি ছেড়ে দেই।”

থানা রোড়ের ব্যবসায়ী হায়দার হোসেন বলেন, “নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে, এমন পণ্যই দোকানে তোলা হয়। যাতে সহজেই সবাই কিনতে পারেন। এইসব পোশাক বিক্রি করে সামান্য লাভ করি। তবে লোকজন অল্প টাকায় ভালো পণ্য কিনবে সেটাই চাই।

“বড় শপিংমলগুলোতে যেসব পণ্য বিক্রি হয়, তার থেকে ফুটপাতের পণ্য কোনো অংশে কম নয়‌। তবে সাধারণ লোক, যারা অতিরিক্ত দামের কারণে কিনতে পারে না, তারাই মূলত আমাদের নিয়মিত কাস্টমার।”