০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

সাজার পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 02:19 PM

Updated : 06 Oct 2026, 02:45 PM

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করার মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) সামসুল আলম মিলন জানিয়েছেন।

দণ্ডিত মো. আতিকুল ইসলাম রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

তিনি লালমনিরহাট সদর থানার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গোকুন্ডা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।

এপিপি সামসুল আলম মিলন বলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার মিতু আক্তারের সঙ্গে আতিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।

“এর জেরে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। আতিকুল কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে মিতুর মাথায় ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন এবং পরে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন।”

তিনি বলেন, “গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই মিতুর মৃত্যু হয় এবং ঘটনার পর পরই আতিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে পাঁচ মাসের মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গিয়ে বিছানায় মিতুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

“তদন্ত শেষে পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটিতে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।”

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামসুল আলম মিলন বলেন, “আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে।”

এ রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে দণ্ডিত আসামি হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।