Published : 23 Jul 2022, 09:27 PM
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় মায়ের মৃত্যুর আগে জন্ম নেওয়া সেই নবজাতক ‘প্রায় সুস্থ হয়েছে’; এ সপ্তাহেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গত ১৬ জুলাই জন্মের সময় শিশুটির ডান হাত দুই স্থানে ভেঙে যায়। পরে তার জণ্ডিস, শ্বাসকষ্ট ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। তাকে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “শিশুটি প্রায় সুস্থ। তবে মাঝেমধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ সপ্তাহে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।”
শিশুটি মাতৃহারা হলেও তাকে মায়ের দুধই খাওয়ানো হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম শনিবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাইরে থেকে কোনো মায়ের বুকের দুধ চেপে আনলে খাওয়ানো হয়। তাছাড়া হাসপাতালে প্রায় দুইশ মা আছেন। নার্সরা আছেন। তারা দুধও খাওয়াচ্ছেন। সবকিছু মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলছে। বড় কোনো আশঙ্কা নেই।”
শিশুটির দাদা মোস্তাফিজুর রহমান অন্যদের মাধ্যমে নাতির খোঁজখবর নিচ্ছেন।
দাদা বলেন, “নাতনিকে দেখতে না পেরে খারাপ লাগছে। তবে খোঁজ পাচ্ছি নাতি ভাল আছে।”
দুর্ঘটনার পর থেকে অনেকে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন বলে তিনি জানান।
গত ১৬ জুলাই বিকালে জেলার ত্রিশাল উপজেলার রাইমনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪০) গর্ভবতী স্ত্রী রত্না আক্তারের (৩০) আল্টাসনোগ্রাফি করাতে ত্রিশাল যান। সঙ্গে ছিল ছয় বছরের মেয়ে সানজিদা আক্তার। ত্রিশাল পৌরশহরে খান ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে তিনজনই মারা যান। মৃত্যুর আগে ট্রাকচাপায় রত্নার পেট ফেটে একটি মেয়েশিশুর জন্ম হয়। জন্মের আগেই তার ডান হাত দুই স্থানে ভেঙে যায়।