১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

শাহবাগে স্লোগানে স্লোগানে কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।

কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মাদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে শাহবাগ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Apr 2025, 12:52 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:39 PM

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য মুহাম্মাদ মাছুদের পদত্যাগের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে সমবেত হন শিক্ষার্থীরা। সেখানে কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, “আমাদের এক দফা, এক দাবি। কুয়েটের দালাল ভিসির পদত্যাগ না করলে আমরা ‘ব্লকেড কর্মসূচি’ চালিয়ে যাব।”

ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুজ্জামান বলেন, “কিছু সময়ের জন্য জনদুর্ভোগ হলেও এর মাধ্যমে যদি দালাল ভিসির পদত্যাগ হয়, তাহলে তা কুয়েটসহ সব ক্যাম্পাসের জন্য আশার বাণী ও দখলবাজদের জন্য হুঁশিয়ারি।”

পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট বিভাগের শিক্ষার্থী  আশিকুর রহমান রাফি বলেন, “দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আর কিছু করার থাকে না। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেও কোনো আশানুরূপ ফল পাইনি।

“উপদেষ্টা পরিষদে দুজন ছাত্র থাকা সত্ত্বেও তারা কুয়েট ছাত্রদের জন্য কোনো কথা বলছে না। তাই আমরা আজ এই শাহবাগ ব্লকেড কর্মসূচির পথ বেছে নিয়েছি। কুয়েট ভিসিকে অপসারণ না করলে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

কুয়েট উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে মিলিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি দল শাহবাগ অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন। উপাচার্যের পদত্যাগে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনকারীরা।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ১৪ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কুয়েট শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। সোমবার থেকে কুয়েটের ৩২ শিক্ষার্থী অনেশনে বসেছেন। তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছেন।

কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ঢাবির একদল শিক্ষার্থী আন্দোলন করছেন। এর আগেও তারা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলছেন তারা।