প্রতিমা গড়তে মজুরি ‘কম’ পাচ্ছেন গোপালগঞ্জের শিল্পীরা

এ বছর গোপালগঞ্জে ১ হাজার ২৭৭টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 10:12 AM
Updated : 19 Sept 2022, 10:12 AM

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গোপালগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা। দুর্গার সঙ্গে বিদ্যার দেবী সরস্বতী, সম্পদের দেবী লক্ষ্মী আর কার্তিক ও গণেশের প্রতিমাও নিপুণ হাতে গড়ছেন তারা। প্রতিমার মূল কাঠামোতে মাটি লাগানো প্রায় শেষ; এরপর রং তুলির টানে পূর্ণাঙ্গ আকার পাবেন দেবী দুর্গা।

এ বছর প্রত্যেক প্রতিমা শিল্পী চার থেকে দশটি করে প্রতিমা গড়লেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে চাহিদার তুলায় মজুরি কম পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীপক্ষ। আর ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গাপূজা। এরপর ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি আর আরতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে গোপালগঞ্জের পাড়া-মহল্লা। চলবে ৫ অক্টোবর পযর্ন্ত।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার প্রতিমা শিল্পী সরজিত সেন বলেন, এ বছর এক একজন ভাস্কর ৪ থেকে ১০ টি করে প্রতিমা তৈরি করেছেন। পূজা শুরুর দিন পর্যন্ত রঙ এর কাজ করতে হবে তাদের। কিন্তু চাহিদার তুলনায় মজুরি কম পাচ্ছেন তারা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতির এ বাজারে পরিশ্রমের পর প্রতিমা তৈরি করে যে মজুরি পান, তা দিয়ে জীবন যাপন করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।

গোপালগঞ্জ সদরের রুপাহাতি গ্রামের সজীব মণ্ডল ও সৌমিত্র বিশ্বাস বলেন, অনেকেই এ পেশা ছেড়ে চলে গেছে। বাপ দাদার আদি পেশা টিকিয়ে রাখতে এখনও এ কাজ করছেন তারা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, গোপালগঞ্জ জেলা শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ১ হাজার ২৭৭টি মন্দিরে দুর্গাপূজা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা হবে সদর উপজেলার ৩৪০টি মন্দিরে। এছাড়া কোটালীপাড়া উপজেলায় ৩১৫টি, মুকসুদপুর উপজেলায় ২৯৮টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ২৩০টি ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৯৪টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বছর দেবী দুর্গা হাতিতে চড়ে পৃথিবীতে আসবেন; কৈলাশে ফিরে যাবেন নৌকায় করে। এতে পৃথিবীতে শস্য ও জল বৃদ্ধি পেয়ে শস্যপূর্ণাতে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

জেলার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা শিল্পীরা বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মন্দিরগুলোতে খঁড় ও মাটি দিয়ে পরম যত্নে গড়ে উঠছে প্রতিমা। এখন চলছে দোঁ-আঁশ মাটির কাজ। এরপর রঙ তুলির টানে প্রতিমাগুলো ফুটিয়ে তোলা হবে।

এদিকে মহামারী পেরিয়ে এ বছর জাঁকজমকভাবে পূজার আয়োজন করছেন আয়োজকেরা। বিভিন্ন প্যান্ডেলে মহাভারতের দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। আলোকসজ্জার পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণেরও আয়োজন করা হচ্ছে।

জেলা শহরের সাহাপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের আয়োজক হারান সাহা ও শ্রী শ্রী গণেশ পাগল সেবাশ্রমের আয়োজক সুজয় বিশ্বাস জানান, তারা ইতোমধ্যে সরকার ও পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা পেয়েছেন। দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে মন্দিরের ভেতরে এবং সামনের সড়কগুলোতে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। আইনশৃঙ্কলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপশি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করবেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডা. অসিত কুমার মল্লিক বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা তার কার্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে আলোচনা সভা করেছে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটিরও আলোচনা হয়েছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ ডিআইডি হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার আয়েশা দিদ্দিকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন উদ্দীন ও সদর থানার ওসি মো. নাসীর উদ্দীনও পূজা নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছেন।

তিনি বলেন, এ বছর শুধুমাত্র মন্দিরের মধ্যে আলোকসজ্জা করা হবে। বাইরের সড়কগুলোতে আলোকসজ্জা গান বাজনাসহ কোনো আয়োজন থাকবে না। পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে প্রতিটি মন্দিরে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপশি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করা হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক