৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

খাগড়াছড়িতে বন ও প্রাণের উৎসবে জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান

মাটিরাঙার পূর্ব খেদাছড়ার ৩৫ নম্বর খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 10:41 PM

Updated : 31 Oct 2026, 10:41 PM

পাহাড়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উদযাপনে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বন ও প্রাণের উৎসব-২০২৬’।

পিটাছড়া ফরেস্ট ও বায়োডাইভার্সিটি কনজার্ভেশন ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে দিনব্যাপী এ উৎসবে ছিল ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ সম্মাননা প্রদান।

শনিবার দুপুরে মাটিরাঙার পূর্ব খেদাছড়ার ৩৫ নম্বর খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সাবেক বিভাগীয় প্রধান জিনাত মাহরুখ বানু, রাঙ্গামাটির বনসংরক্ষক মো. আব্দুল আওয়াল সরকার এবং খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যোহ্লা মং।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, “মানুষের অবিবেচক আচরণের কারণে প্রকৃতি অত্যন্ত রুদ্ররূপ ধারণ করছে এবং বারবার আমাদের সতর্ক বার্তা দিচ্ছে। প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।”

বৃহত্তর উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আফিস সালেহ ভবিষ্যতে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের যেকোনো উদ্যোগে পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের সাবেক প্রধান জিনাত মাহরুখ বানু বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরো গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা তার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “পিটাছড়ার মত উদ্যোগ সামাজিক মূলধন। এই ধরনের মূলধন যত বাড়াতে পারবো আমরা তত ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।”

রাঙ্গামাটির বনসংরক্ষক মো. আব্দুল আওয়াল সরকার বলেন, বিভিন্ন কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন উজাড় হচ্ছে। পিটাছড়ার মত উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভুমিকা রাখছে।

আলোচনায় অতিথিরা বলেন, দেশে যখন ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগে বন উজাড় হচ্ছে, তার বিপরীতে পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার উদ্যোগ একটি অনুপম দৃষ্টান্ত।

উৎসবে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য রিতু পারভীনকে ‘সমাজ উদ্যোগ সম্মাননা’, সোহেল শ্যামকে ‘প্রাণবৈচিত্র সংরক্ষণ সম্মাননা’ এবং হরিরামপুর শ্যামল নিসর্গকে ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্মাননা’ দেওয়া হয়।

আলোচনা সভা শেষে ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা, বাঁশ খেলা ও হাঁড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকালে পিটাছড়া সাংস্কৃতিক দল, বিন্দু বিদ্যানিকেতনের শিল্পী এবং চট্টগ্রামের গানের দল অগ্নীবীণার বর্ণিল পাহাড়ি নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা শেষে লোকগানের শিল্পী বগা তালেবের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা নামে।