Published : 29 Jul 2023, 07:21 PM
এসএসসিতে ভালো ফল করায় মামুনের যখন আনন্দে মেতে ওঠার কথা তখন তার দাফন সারছিলেন স্বজনরা। ফল প্রকাশের একদিন আগে হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া এই মেধাবী ছাত্রের জানা হল না জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর।
হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে তার বাবা মোস্তফা জামান বলছিলেন, “আমার সোনার টুকরো ছেলেটা রেজাল্ট দেখে যেতে পারল না। তার আগেই আমাদেরকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে চিরতরে চলে গেল। আমার সোনার টুকরো ছেলেটা খুবই মেধাবী ছিল।”
আব্দুল্লাহ আল মামুন রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মা আরজিনা বেগম। দুই ভাইয়ের মধ্যে মামুন বড় ছিল। তার ছোট ভাই আব্দুল্লাহ আল মুনতাসিরও রংপুর জিলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।
তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাংগিরহাট বামনদিঘি এলাকায়।
বৃহস্পতিবার বিকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তশূন্যতা রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মামুনের। আর শুক্রবার প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ফলাফলে তার জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর জানা যায়।
মামুনের বাবা স্কুল শিক্ষক মোস্তফা জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অসুস্থতার কারণে গত ২৫ জুন মামুনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে হিমোগ্লোবিন কম ছিল। এ কারণে রক্ত তৈরি হত না। তাছাড়া আর কোনো রোগ ছিল না।
“আমরা আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। বাইরের দেশে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই ছেলেটা চলে গেল।”
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় তারাগঞ্জ উপজেলার ডাংগিরহাট বামনদিঘি গ্রামের খিয়ারদিঘি কবরস্থানে সমাহিত করা হয় মামুনকে।
মামুনের সহপাঠী ইয়াসির আরাফাত বলেন, “বন্ধু হিসেবে মামুন অনেক ভালো ছেলে ছিল। হঠাৎ করে তাকে হারিয়ে আমরা সত্যি খুব কষ্ট পেয়েছি।”
রংপুর জিলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সাহিনা সুলতানা জানান, “আমরা শোকাহত। আমরা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারালাম। শিক্ষক হিসেবে, অভিভাবক হিসেবে আমরা খুবই শোকাহত।”
“ছেলেটা চোখের সামনেই বেড়ে উঠল কিন্তু মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর দিনে সে আমাদের মাঝে আর নেই।”
রংপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক আল ইমরান বলেন, “মামুন খুবই মিশুক ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল তার। এবারে ভালো ফলাফল করেছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সে রেজাল্ট জানতে পেল না।”
তিনি আরও জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুন রংপুর জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। তার মৃত্যুর খবরে গোটা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, কর্মচারীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।