Published : 27 Dec 2023, 01:35 AM
বিএনপি নেই, অভিমানে ভোট থেকে দূরে সরে গেছেন রওশন এরশাদ; যে কারণে জাতীয় পার্টি থেকেও নেই। ময়মনসিংহ সদরে সবশেষ তিন দশকের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থীর সামনে এবারের সুযোগ একেবারেই সহজ হওয়ার কথা। তবে ভোটের মাঠের চিত্র কি তাই বলছে?
বাবার রাজনৈতিক আঙিনায় প্রথমবার দলের মনোনয়ন চেয়েই নৌকা পেয়ে যাওয়ায় তাকে ভাগ্যবানই বলছিলেন স্থানীয় রাজনীতিক ও কর্মী-সমর্থকরা। অল্প বয়সে মোহিত উর রহমান শান্তর এমন সুযোগ পাওয়া তার জন্য অনুকূল ভাবা হলেও শুরুতেই তা আর সহজ থাকছে না।
অনেকটা খালি ময়দানেও ময়মনসিংহ-৪ আসনে নৌকার প্রার্থীর জিতে আসার ক্ষেত্রটি এখন জটিল হিসাবের মধ্যে পড়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বতন্ত্র নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়ার নীতিতে দলের মধ্যেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন শান্ত। ভোটের আলাপে নৌকার ভোট ভাগ হওয়া বিষয়টি এখন ঘুরেফিরে আসছে।
মাঠের চিত্র বলছে, দলের অন্য নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকায় বাবা সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের মত শান্তও দলীয় বিভেদের মধ্যে পড়ে গেছেন।
সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমানকেও বার বার দলীয় বিভেদ পেরিয়ে আসতে হয়েছে; যা প্রায় সব নির্বাচনেই তাকে পর্যুদস্ত করে ছেড়েছে।
সংসদ নির্বাচনে শুধু যে দলীয় বিভেদ কাটিয়ে আসতে হয়েছে প্রবীণ রাজনীতিককে তা নয়, বার বার ময়মনসিংহ সদরের এ আসনে মাঝি হওয়া থেকে বঞ্চিতও হয়েছেন। জাতীয় পার্টিকে একাধিকবার আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে।
‘তার ছেলেও কি ভাগ্যের ফেরে পড়লেন?’- এমন প্রশ্ন রেখে স্থানীয়রা বলছেন, তা না হলে এবার আওয়ামী লীগের জন্য রাখা খালি ময়দানে শান্ত কেন সেই একই দলীয় বিভেদের মধ্যে পড়ে গেলেন?
ময়মনসিংহ মহানগরের নেতা শান্তকে এ আসনে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের আরেক নেতা আমিনুল হক শামীম, যিনি জোরেশোরেই ভোটে রয়েছেন স্বতন্ত্র হয়ে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে ময়মনসিংহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের মেয়র
ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটের মাঠ অশান্ত হয়ে পড়ছে; পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে প্রাণও গেছে একজনের। ছোটখাট অপ্রীতিকর ঘটনাও লেগেও আছে।
ব্যবসায়ী নেতা থেকে রাজনীতিতে আসা শামীম জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তিনি সদরের পাশাপাশি ত্রিশালেও নৌকার মাঝি হতে চেয়েছিলেন। দলের সাড়া না পেয়ে এই পরিবহন ব্যবসায়ী ট্রাক প্রতীক নিয়ে ময়মনসিংহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনিই শান্তর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
শামীমের ছোট ভাই ইকরামুল হক টিটো ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর কমিটির সভাপতি। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে তার শক্ত ভিত্তি রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একটি বড় অংশ তার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাদের সঙ্গে আছেন।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এখানে স্পষ্টই দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। শান্ত মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক; মেয়র সেই কমিটির সভাপতি।
নির্বাচন ‘অংশগ্রহণমূলক’ করার কৌশলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে দলীয়ভাবে বাধা না থাকায় ভোটকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ভোটের প্রতিশ্রুতিতে দুই প্রার্থীও ভিন্ন ধারার কথা বলছেন।
ময়মনসিংহ শহরের বুক চিড়ে রেললাইন গেছে জামালপুরের দিকে। ওই রেলপথ শহরকে দুইভাগ করেছে, যা ছোট্ট এ শহরে যানজটের অন্যতম কারণ। শান্ত বলেছেন, এ রেললাইন তিনি ‘তুলে’ ফেলবেন। শহরের যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার করে দেবেন।
তুলনামূলক নতুন এ বিভাগীয় শহর নিয়ে আরেকটি আলোচনাও এখন তুঙ্গে। ‘মনুষ্যভারে জর্জরিত’ বিশ্বের নয় নম্বর ধীর গতির বিভাগীয় শহরটির এখন কী হবে? নদীর ওপাড়ে আরেকটা উপশহর হবে, না কি হবে না- এটা এখন রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমিনুল হক শামীম বলেছেন, তিনি ব্রহ্মপুত্রের ওপারে একটি উপশহর বানাবেন।
চার দশকের বেশি সময় ধরে সক্রিয় ময়মনসিংহ শহরের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার ভাষ্য, “এইখানে এখনও দেশের অনেক জায়গার মত জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় নাই। ময়মনসিংহের ১১টা আসনের মধ্যে নয়টাতেই নৌকা বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
“এখন পর্যন্ত গফরগাঁও, ফুলপুরে নৌকা জিতবে এটা যত সহজে বলা যায়; সদরের ব্যাপারে এটা বলা যাবে না। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।”
রওশন এরশাদ এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে জিতে বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। শহরের পাশেই সুতিয়াখালীতে তার বাবার বাড়ি। এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখানে আবু মো. মুসা সরকার।
১৯৯৬ সালে নৌকা থাকা অবস্থায়ও রওশন এরশাদ এখানে জয়ী হয়েছেন। আবার ২০০৮ সালে তিনি এখানে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট করে দেড় হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিলেন।
মানবাধিকারকর্মী, অ্যাক্টিভিস্ট ও কবি আলী ইউসুফ বলছিলেন, “এবার বোঝা যাবে এখানে জাতীয় পার্টির আসলে ভোট কত। তিনি নিজের কত ভোটের জোরে বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। এ দেশের একজন বিরোধী দলের নেতার নিজের আসনে তার দলের ভোট কত এটা এবার প্রমাণ হবে।”
এ আসনে নির্বাচনের খেলায় ‘অর্থনৈতিক’ বনাম ‘সাংগঠনিক’ শক্তির লড়াই হবে বলেও মনে করেন তিনি।
ভোটের মাঠে আরও রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান দুলু। বিএনপির এক সময়ের এই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। অধ্যক্ষ মতিউরকে প্রথমবার হারিয়ে তিনি ময়মনসিংহ পৌরসভার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। পরে বিএনপির টিকেটে সংসদ সদস্যও হয়েছিলেন।
এখানে বিএনপির ভোট ব্যাংকও বেশ বড়। তবে দুলুর আগের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে বলে মনে করেন ভোটারদের একটা অংশ। বিএনপির যে অংশটা ভোট দিতে যাবে তারা আদৌ দুলুকে বেছে নেবেন কি না সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকের।
সিটি করপোরেশন ও ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত এ আসন।
ভোটার ৬ লাখ ৫০ হাজার ২৮৪ জন।
পুরুষ ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৯৭ জন এবং নারী ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১০ জন।
১৯৯১ সালের পর থেকে জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনবার (১৯৯৬, ২০১৪ ও ২০১৮)।
বিএনপির হয়ে দেলোয়ার হোসেন খান দুলু (২০০১) ও এ কে এম ফজলুল হক (১৯৯১) জয়ী হয়েছেন একবার করে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জিতেছেন একবার (২০০৮)।
সিটি করপোরেশনের বাইরে বাকি বড় অংশ চর। এটির ভোটের উপরই অনেকাংশে নির্ভর করে প্রার্থীর জয়-পরাজয়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন অধ্যক্ষ আমীর আহমেদ চৌধুরী রতন। সেবার মতিউর রহমান প্রার্থী হননি। ২০০১ সালে মতিউর দলের প্রার্থী হন। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা রতন তাকে ছাড় দেননি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ৩০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। মতিউর হেরেছিলেন ১৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে। রতনের ভোটের বড় অংশই ছিল চরের। কারণ, চরের নেতৃত্বে একটা অংশ তখন তার সঙ্গে ছিল।
চরের অনেক ইউপি চেয়ারম্যান এরই মধ্যে শামীমের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তিনি প্রচারও শুরু করেছেন ব্রহ্মপুত্র নদের চর এলাকার কুষ্টিয়া ইউনিয়ন থেকে।
সেই নদীর জলেই শত নৌকা ভাসিয়ে প্রচারে নেমেছেন শান্ত। চরের ভোট এবারও বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সেখানকার ভোটাররা।
নগরীর অলিতে-গলিতে আর রাস্তাঘাটে নির্বাচন না জমলেও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। নেতারা নেতাদের কাছে ছুটছেন। কে কোন পক্ষে- এ নিয়ে আলোচনা আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের দোলা এখনও শুরু হয়নি নগরীতে।
ভোট ও রাজনীতির কিছুটা খোঁজখবর যারা রাখছেন তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের একটা অংশ সরাসরি নৌকা ছেড়ে স্বতন্ত্র জেলা কমিটির সহকর্মীর পক্ষ নিয়েছেন। সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের একটা অংশও শামীমের পক্ষে কাজ করছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল নিজেও দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নৌকার মাঝি হতে পারেননি।
নৌকা ছেড়ে কেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন- এমন প্রশ্নে সরাসরিই তিনি বলেন, “নির্বাচনে কারও পক্ষে কাজ করতে হবে আমাদের এমন কোনো ধরাবাঁধা নেই। শেখ হাসিনা বলে দিছেন, যা ইচ্ছে তাই করো। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য, একটি আলোচিত নির্বাচনের জন্য, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য।
“পৃথিবীকে দেখাতে হবে, দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। তাই আমি আমার পছন্দের প্রার্থী শামীম সাহেবকে সমর্থন দিয়ে তাকে জেতাতে কাজ করছি। অনেকে নৌকা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করছে।”
নৌকার সমর্থক ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শাহরিয়ার মোহাম্মদ রাহাত বলেন, “আমরা অনেকে কাজ করছি। আবার অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম সাহেবের পক্ষ নিয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবলীগকে অবহিত করা হয়েছে।
“আমরা যারা আমাদের আদর্শের প্রতীক ভুলে গিয়ে স্বতন্ত্রে ভিড় জমাচ্ছি সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
তবে এরই মধ্যে একে অপরকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আবুল হাসিম নামের এক ভোটার। তিনি বলেন, “সাধারণ ভোটার হিসেবে মনে করি, সেটি সংঘাতের দিকে যাবে। আমরা চাই ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।”
সমাজকর্মী তানজিয়া সুলতানা বলেন, “পর পর দুইবার আওয়ামী লীগ মহাজোটের প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল। এবার রওশন এরশাদ ভোটে না আসায় আসনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।
“সেখানে আবার আওয়ামী লীগের আমিনুল হক শামীম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার কারণে ভোটের পরিস্থিতি একটু উত্তেজনাপূর্ণ। এখানে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।”
একজন প্রবীণ রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি বলছিলেন, “এখানে স্বাধীনতার পর থেকে অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু জিতেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারাই। স্বতন্ত্র জেতার কোনো ইতিহাস নাই। এখানে স্বতন্ত্র কেউ জিতলে সেটা ইতিহাস হবে।”
কী বলছেন প্রার্থীরা
মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, “আমি অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সন্তান। আমার প্রতিটি রক্তকণিকায় আওয়ামী লীগ নামটি জড়িত।“
নির্বাচনের মাঠে বিএনপি না থাকায় আর কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন না দাবি করে তিনি বলেন, “তবে যারা নৌকার বিপক্ষে কাজ করছেন তারা হাইব্রিড। এদের মধ্যে অনেকে এই শহরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাদের পক্ষে স্বাধীনতার চেতনার জয় হতে পারে না।“
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তিনি বলেন, “শহরটি আজ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। শহরের যানজট নিয়ে কাজ করা হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেস নির্মাণ ও রেললাইন সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করা হবে।”
নৌকাকে চ্যালেঞ্জ জানানো একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল হক শামীম বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে ময়মনসিংহ সদরসহ পুরো জেলার উন্নয়নে কাজ করব। সদরে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ থাকতে পারবে না। এ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো এমপি না থাকায় এ জনপদে যথাযথ উন্নয়ন হয়নি।
“রাস্তাঘাট-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাসহ অন্যান্য খাত প্রায় বিপর্যস্ত। এসব দিকে আমি প্রথমেই নজর দেব। এরপর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাসহ স্মার্ট ময়মনসিংহ সদর গড়তে আমি কাজ করব।“
জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিজের পক্ষে টানার বিষয়ে জেলা কমিটির এই সহসভাপতি বলেন, “যারা আমাকে ভালোবাসে তারাই আমার পক্ষে কাজ করতে মাঠে নেমেছেন। কাউকে জোর করে আনা হয়নি। ট্রাক প্রতীকের জোয়ার উঠেছে। আশা করি, সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হব।”
নিজের ‘ভোট-ব্যাংক’ আছে দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির এক সময়ের সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান দুলু বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে সরকারের প্রতি আস্থা রেখে ভোট করছি। মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সাড়াও রয়েছে। ভোটে কারচুপি না হলে বিজয়ের রায় আমার পক্ষে আসবে।”
লাঙ্গল প্রতীকের আবু মো. মূসা সরকার বলেন, “রওশন এরশাদের হাত ধরে বিভাগ, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠাসহ অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সাধারণ মানুষ আবারও জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।”
ভোটে আরও রয়েছেন তৃণমূল বিএনপির দীপক চন্দ্র গুপ্ত (সোনালী আঁশ), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পরেশ চন্দ্র মোদক (গামছা), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন-বিটিএফের বিশ্বজিৎ ভাদুড়ী (ফুলের মালা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির মো. হামিদুল ইসলাম (আম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপির সেলিম খান (একতারা)।