Published : 21 Jun 2023, 04:10 PM
বরাবরের মতো ইভিএমে ভোট নেওয়ায় ধীরগতি, কোথাও কোথাও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেওয়া ও হয়রানির অভিযোগের মধ্যে শেষ হলো সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ; এবার ফলাফলের অপেক্ষা।
বুধবার সকাল ৮টায় দুই নগরীর ৩৪৫টি ভোটকেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে।
বিকাল ৪টার পরও যেসব কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটার ছিল, তাদের ভোটগ্রহণ শেষ করেই কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ।
সিলেট নগরীর জালাবাদ গ্যাস ভবনের অডিটোরিয়াম এবং রাজশাহীর শিল্পকলা একাডেমিতে স্থাপিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
রাজশাহীতে দুটি কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ছাড়া দুই সিটি নির্বাচনে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুই সিটিতেই বিগত যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটারের কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সিলেট ও রাজশাহী সিটিতে ভোটার উপস্থিতি গড়ে ৪০ ভাগের উপরে হতে পারে বলে ধারণা করছে নির্বাচন কমিশন।
ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের কথা বলছে। বিএনপিবিহীন এ নির্বাচনে ভোটে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও বর্জন করেছে। জাতীয় পার্টি ভোটে থাকলেও তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পারলেও ভোটের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে।
ভোটের আনন্দমুখর পরিবেশ দেখে সন্তুষ্ট রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, “ভোটে অংশগ্রহণ না করা বিএনপির ভুল হয়েছে।…প্রার্থী মাত্রই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী থাকে, আমি ইনশাআল্লাহ শতভাগ নিশ্চিত।”
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নৌকার পক্ষে ‘ইতিবাচক সাড়া’য় জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। তবে শেষ পর্যন্ত যদি হেরেও যান, ভোটের ফল মেনে নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় পার্টির সিলেটের মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল এবং রাজশাহীর সাইফুল ইসলাম স্বপন ভোটকেন্দ্রগুলোতে খুব ধীর গতি ও এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগের কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
তবে কোথাও কোনো প্রার্থী তাদের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ কমিশনের কাছে দেননি বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা।
পাঁচ সিটি নির্বাচনের শেষ ধাপে সিলেট ও রাজশাহী সিটির ভোটও শান্তিপূর্ণ হওয়ায় স্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন।
এ নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোটার শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। কোনো অনিয়ম নেই। বৃষ্টির কারণে কিছুটা উপস্থিতি কমলেও সার্বিকভাবে ভোটার উপস্থিতি অনেক ভালো।
নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক দলের প্রধান যুগ্ম সচিব মনিরুজ্জামান তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা নগরীর প্রায় সব ওয়ার্ডেই গেছি; অধিকাংশ কেন্দ্রই পরিদর্শন করেছেন আমাদের দলের সদস্যরা। এ সময় আমরা ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এতে ধারণা করছি, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।”
কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় নি বলে জানান তিনি।
সিলেটে প্রার্থী যারা
মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (আওয়ামী লীগ, নৌকা)
নজরুল ইসলাম বাবুল (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)
মাহমুদুল হাসান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা)
মো. জহিরুল আলম (জাকের পার্টি, গোলাপ ফুল)
মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু (স্বতন্ত্র, ঘোড়া)
মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (স্বতন্ত্র, ক্রিকেট ব্যাট)
মো. শাহ জাহান মিয়া (স্বতন্ত্র, বাস)
মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (স্বতন্ত্র, হরিণ)
>> পদ: মেয়র একজন, ৪২ জন সাধারণ কাউন্সিলর, ১৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর
>> ভোটার: ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩ জন।
>> ভোটকেন্দ্র: ১৯০টি, ভোটকক্ষ: ১ হাজার ৩৬৭টি।
>> রিটার্নিং অফিসার: সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের।
রাজশাহী সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, সবখানে সুচারুভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। দুয়েকটি জায়গায় ইভিএমের কারিগরি ত্রুটি দেখা গেলেও স্বল্প সময় তা ঠিক করে নেওয়া হয়েছে।
বেলা সাড়ে বারেটা পযন্ত পযন্ত গড় ভোট পড়ার হার ছিল ৩০-৩৫%। বিকাল চার টায় ভোট শেষে অন্তত ৫০% ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ইসির পযবেক্ষক টিমের প্রধান যুগ্মসচিব মাহবুবার রহমান সরকার জানান, ভোটের পরিবেশ বেশ ভালো, শান্তিপূর্ণ, কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় নি।
রাজশাহীতে প্রার্থী যারা
এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন (আওয়ামী লীগ, নৌকা)
মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)
মো. মুরশিদ আলম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা)
মো. লতিফ আনোয়ার (জাকের পার্টি, গোলাপ ফুল)
পদ: মেয়র একজন, ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর, ১০ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর
ভোটার: ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন।
ভোটকেন্দ্র: ১৫৫টি, ভোটকক্ষ: ১ হাজার ১৫৩টি।
রিটারিং অফিসার: রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।
এবার দুই সিটিতে প্রথমবারের মতো সবকেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হচ্ছে।
সিলেটে ২০০৮ সালে ভোট পড়ার হার ছিল ৭৫%। ২০১৩ সালে এ সিটিতে ভোট পড়ে ৬২% এবং ২০১৮ সালেও ভোটের হার ছিল প্রায় ৬৩%।
রাজশাহীতে ২০০৮ সালে ভোট পড়ার হার ছিল ৮১.৬১%। ২০১৩ এ সিটিতে ভোট পড়ে ৭৬.০৯ %। সবশেষ ২০১৮ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ভোটে ৭৮.৮৬% ভোট পড়েছে।
কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন জাতীয় নির্বাচনের আগে গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহীর ভোট শেষ করলো।
পুরানো খবর:
৪০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার আশা ইসির