০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যরাতে যুবদল কর্মীকে অচেতন করে শরীরে ব্লেড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নিজ ঘরে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পান রিফাত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Oct 2026, 07:49 PM

Updated : 03 Oct 2026, 07:49 PM

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় ঘরে ঢুকে এক যুবদল কর্মীকে অচেতন করে হাত-পা বেঁধে ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম দিঘলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন উপজেলার দিঘলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরওয়ার।

আহত রিফাত হোসেন (১৮) ওই গ্রামের প্রয়াত রিপন হোসেনের ছেলে। তিনি দিঘলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সক্রিয়কর্মী। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খবর পেয়ে শনিবার সকালে রিফাতকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বিএনপি নেতা গোলাম সরওয়ার বলেন, “রিফাত যুবদলের সক্রিয়কর্মী। এর আগেও তার ওপর হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনা আপোষও হয়েছে। ফের হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

রিফাতের ভাষ্য, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে ফেরেন। পরে রাত ১টার দিকে ঘরে একা থাকা অবস্থায় হঠাৎ দরজা ভাঙার শব্দ শুনতে পান। এ সময় চার থেকে পাঁচজন মুখোশধারী লোক ঘরে ঢুকে তার মুখে রুমাল চেপে ধরলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে জ্ঞান ফিরলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নিজেকে দেখতে পান। এরপর আবারও তাকে অচেতন করা হয়। পরবর্তীতে জ্ঞান ফেরার পর তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেডের আঘাত দেখতে পান। চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে দিঘলী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

রিফাত বলেন, “মুখোশ পরা থাকায় আমি কাউকে চিনতে পারিনি। কারও সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলাও নেই। স্থানীয়ভাবে আমি নারিকেল-সুপারির ক্ষুদ্র ব্যবসা করি।”

রিফাতের বড় বোন রিয়া আক্তার বলেন, “আমি শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম। খবর পেয়ে এসে দেখি ভাইয়ের পুরো শরীর ব্লেড দিয়ে কাটা হয়েছে। এর আগেও তার সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তখন থানায় মামলা করেছিলাম। কিন্তু আমরা বিচার পাইনি।”

দিঘলী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক হাসানুজ্জামান বলেন, “এক তরুণের শরীরে ব্লেডের আঘাত নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রব বলেন, ঘটনাটি তাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।