মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে চান আওয়ামী লীগের ৩ নেতা

মানিকগঞ্জে এই নির্বাচনে ভোট দিবেন ৮৮৯ জনপ্রতিনিধি।

মাহিদুল ইসলাম মাহিমানিকগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 03:29 PM
Updated : 10 Sept 2022, 03:29 PM

জেলা পরিষদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই একে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর রাজনৈতিক মাঠে সরগরম হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। তবে দেশের অধিকাংশ জেলার মতো মানিকগঞ্জেও আলোচনায় আছেন শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই।

তফসিল ঘোষণার পরই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজে কিংবা সমর্থকদের মাধ্যমে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে জানান দিতে শুরু করেছেন।

এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান প্রশাসক যেমন আছেন, তেমনি আছেন আওয়ামী লীগের জেলা ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাও।

প্রথমবারের মতো ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বর্তমান প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন। গত নির্বাচনে তিনি মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ রমজান আলীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

গোলাম মহীউদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলাম। এরপর মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।”

জেলা প্রশাসক হিসেবে নিজের দায়িত্বকালের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। কাজের ব্যাপারে আমার কোনো ত্রুটি ছিল না। অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। ব্যক্তিগতভাবেও অনেক লোকজনকে সহযোগিতা করেছি।”

এবারও চেয়ানম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, “আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নেত্রীর আস্থার প্রতি অবিচল। দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছি।”

দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো।

নিজের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি ছিলাম। দেবেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের তিনবার ভিপি ছিলাম। দুইবার আইনজীবী সমিতির সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছি।

“বর্তমানে সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।”

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “দল আমাকে এবার মনোনয়ন দেবেন বলে আমি শতভাগ আশাবাদী।”

এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুলও।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই খেলোয়াড় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক (তিন বার) ছিলাম। দুইবার বিসিবি পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি।

“বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ও সিলেকশন কমিটির সদস্য পদেও ছিলাম। ঢাকা কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।”

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “আমি অনেক বেশি আশাবাদী জেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার দলীয় মনোনয়ন পাব। দলের নেতাকর্মীরা আমাকে চাচ্ছেন।”

তবে নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বিরাজ করলেও, আগ্রহ নেই বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এ কবির জিন্নাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না।”

গত ২৩ অগাস্ট এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার নির্বাচন হবে জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে। সংশোধিত এ আইন অনুযায়ী, এবার জেলা পরিষদে নির্বাচিত হবেন ১১ জন; এর মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, সাত জন সাধারণ সদস্য এবং তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৮৯ জন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক