Published : 05 Nov 2022, 06:10 PM
শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় একপাল বন্যহাতি এক দিনমজুরের বসতবাড়ি ভেঙে তছনছ করে চলে গেছে।
শুক্রবার গভীর রাতে গারো পাহাড় সংলগ্ন কাংশা ইউনিয়নের গুরুচরণ দুধনই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর আব্দুল মোতালেব ওই এলাকার প্রয়াত জানলি শেখের ছেলে।
মোতালেব সাংবাদিকদের জানান, রাত আড়াইটার দিকে বন্যহাতির একটি দল তার বাড়িতে ঢুকে তার বসতঘরের সিমেন্টের খুঁটি, বেড়া, রান্না ঘর ভেঙে তছনছ করে দেয়।
“ঘরে ভেতরে আলনা, রিফ্রিজারেটর, হাঁড়ি-পাতিল, জামা-কাপড়, আসবাবপত্র এবং ধান-চাল পা দিয়ে পিষে নষ্ট করে।”
এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তার দাবি।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডব চলাকালে জীবন বাঁচাতে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরবাড়ি ফেলে পালিয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় কাংশা ইউপির সদস্য রহমত আলী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গারো পাহাড় সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় খাবারের সন্ধানে বন্যহাতির দল হানা দিচ্ছে। বন্যহাতির পাল লোকালয়ে প্রবেশ করে কাঁচা ধান, সবজি, গাছ-পালাসহ মানুষের ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সহকারী বন সংরক্ষক ও রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় সারা বছর ধরেই বন্যহাতির দল খাদ্যের সন্ধানে গারো পাহাড় সংলগ্ন লোকালয়ে প্রবেশ করে জানমালের ক্ষতি করে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বন বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়। বন বিভাগের আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা হবে।
খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়িটি পরিদর্শন করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও ফারুক আল মাসুদ।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও ফারুক আল মাসুদ বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করা হয়েছে। তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সহযোগিতা করা হবে।”
ইউএনওর পরিদর্শনের সময় সহকারী বন সংরক্ষক ও রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, গজনী বিট কর্মকর্তা মো. মকরুল ইসলাম আকন্দ, ঝিনাইগাতী থানার এসআই মোহাম্মদ ফরিদ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ইউপি সদস্য রহমত উল্ল্যাহ তার সঙ্গে ছিলেন।