০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ‘মাছ ব্যবসায়ী’ পরিচয়ে ভাড়া নেওয়া বাসায় মিলল ২২ হাজার ইয়াবা

জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 02:35 PM

Updated : 06 Oct 2026, 02:35 PM

চাঁদপুর সদর উপজেলার একটি বাসা থেকে ২২ হাজার ১২০টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বাসাটি খালি থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।

বাড়ির মালিক আবুল হাসনাত বলেন, মো. ফারহান রানা নামের এক যুবক তিন মাস আগে মাসিক ৮ হাজার টাকায় বাসাটি ভাড়া নেন। ফারহান নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

আবুল হাসনাত আরও বলেন, বাসা নেওয়ার পর ফারহান সেখানে সোফা, খাট, ফ্রিজ, এসিসহ বিভিন্ন আসবাব ও মালামাল নিয়ে আসেন। তার সঙ্গে একজন প্রাইভেটকারের চালকও থাকতেন।

আবুল হাসনাতের ভাষ্য, ফারহান নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় তাকে নিয়ে কোনো সন্দেহ হয়নি। এখন বাসাটি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

আবাসিক ভবনের ভাড়া বাসা থেকে এত ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায়ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ওই বাসায় কয়েক মাস ধরে লোকজনের যাতায়াত ছিল। তবে সেখানে মাদক মজুদ করা হতে পারে- এমন কোনো ধারণা তাদের ছিল না।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপ-সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, নুরুল্লাপুরের ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুদ করা হয়েছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালালে বাসাটিতে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির মালিকের উপস্থিতিতে বাসাটিতে তল্লাশি চালান হয়।

এ সময় ২২ হাজার ১২০টি ইয়াবা পাওয়া যায়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, কারা এগুলো সেখানে রেখেছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত- এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফারহান রানা বা অন্য কারও বিরুদ্ধে ইয়াবা মজুদের অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ফারহান রানা বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।