গোপালগঞ্জে বার্ষিক পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন বিক্রি, শিক্ষক বরখাস্ত

শিক্ষক ইমাম হোসেন টুটুল তার মোবাইল নম্বর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে দিয়ে অভিভাবকদের যোগাযোগ করতে বলেন।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Dec 2023, 09:58 AM
Updated : 5 Dec 2023, 09:58 AM

গোপালগঞ্জে ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার গণিতের প্রশ্ন আগের রাতে ফাঁস ও বিক্রি করার অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র হালদার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। 

বরখাস্ত হওয়া ইমাম হোসেন টুটুল টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ১১নং দক্ষিণ বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। 

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৩নং ক্লাস্টারভূক্ত ২৬টি বিদ্যালয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে সেই পরীক্ষার তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

যদিও খবর পেয়ে গণিতের প্রশ্ন পরিবর্তন করা হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। 

অভিভাবক রিনা বেগম ও কুমকুম বেগম অভিযোগ করে বলেন, “গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে চারুকারু পরীক্ষা শেষ হয়। শিক্ষক ইমাম হোসেন টুটুল তার মোবাইল নম্বর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেন। অভিভাবকদের ওই নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলেন। 

“আমরা কয়েকজন অভিভাবক ওই নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করি। তখন ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে গণিতের প্রশ্ন পাওয়া যাবে বলে ওই শিক্ষক আমাদের প্রস্তাব দেন। 

“আমরা টাকা দিলে পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যায় (২৫ নভেম্বর) গণিত প্রশ্ন দেন ওই শিক্ষক। এ সংক্রান্ত কয়েকটি কল রেকর্ড টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমরান শেখ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আমরা পাঠিয়ে দেই।” 

উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমরান শেখ বলেন, “রাতেই টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-মামুন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই। তাদের পরামর্শে প্রশ্ন পরিবর্তন করা হয় বলে জানতে পেরেছি।” 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ২৬ নভেম্বর নতুন প্রশ্নে ৩নং ক্লাস্টারের ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। 

ওই কর্মকর্তা আর ও বলেন, পরীক্ষার পর ইউএনও ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে প্রশ্ন বিক্রির সত্যতা মিলেছে। তাই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ধারা ২০১৮ এর ৩ (বি) ধারায় অভিযুক্ত করে শিক্ষক ইমাম হোসেন টুটুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে ইমাম হোসেন টুটুলের মুঠোফোনে বারবার কল করা হয়। কিন্তু সেটি মোবাইলটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।