০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

ইয়ামাল ও হাফিনিয়ার জোড়া গোল, বার্সেলোনার বড় জয়

টানা দুই হারের পর জয়ে ফেরার পাশাপাশি লা লিগার শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করল হান্সি ফ্লিকের দল।

ইয়ামাল ও হাফিনিয়ার জোড়া গোল, বার্সেলোনার বড় জয়

বার্সেলোনার প্রথম গোলের পর লামিন ইয়ামাল (বাঁয়ে) ও হাফিনিয়ার উদযাপন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Nov 2026, 04:03 AM

Updated : 01 Nov 2026, 04:22 AM

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হারের ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল বার্সেলোনা। জোড়া গোলের আলো ছড়ালেন আক্রমণভাগের দুই তারকা হাফিনিয়া ও লামিন ইয়ামাল। আলাভেসকে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল হান্সি ফ্লিকের দল।

কাম্প নউয়ে শনিবার রাতে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা, শেষ পর্যন্ত ৬-১ ব্যবধানে জেতে লিগের শিরোপাধারীরা।

জয়ীদের অন্য দুটি গোল করেন ফের্মিন লোপেস ও অ্যান্থনি গর্ডন। লোপেস দুটি গোলে সহায়তাও করেন।

দিনের প্রথম ম্যাচে, লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনাকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠে আতলেতিকো মাদ্রিদ। কয়েক ঘন্টা পরই হারানো স্থান ফিরে পেল গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

১১ ম্যাচে ১০ জয়ে বার্সেলোনার ৩০ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট কম নিয়ে দুই নম্বরে নেমে গেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

১০ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে রেয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচে ৭৭ শতাংশ পজেশন রেখে বার্সেলোনা গোলের জন্য ১৩ শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারে সাতটি, যার ছয়টিই জড়ায় জালে। আলাভেসের সাত শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

২০ অক্টোবর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির মাঠে ৪-০ গোলে হারের পর, গত রোববার লা লিগায় ঘরের মাঠে রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বসে বার্সেলোনা।

জয়ে ফেরার লক্ষ্যে ঘরের মাঠে অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। পেদ্রির চমৎকার পাস বক্সের ভেতর বাঁ দিকে পেয়ে লোপেস গোলমুখে বল বাড়ান, আর ছুটে গিয়ে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে অনায়াসে জালে পাঠান হাফিনিয়া।

একাদশ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফেরার ভালো একটি সুযোগ পায় আলাভেস। কিন্তু পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন অরক্ষিত আবদে রেবাখ। পরের মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে আনহেল পেরেসের জোরাল শট রুখে দেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। একটু পর লুকা বোয়ের হেড প্রতিহত করে দলকে বাঁচান রদ্রি।

২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ইয়ামালের পাস বক্সে পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে চমৎকার এক শটে বল জালে পাঠান লোপেস।

এই মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে এই স্প্যানিশ উইঙ্গারের গোল হলো ছয়টি, সঙ্গে অ্যাসিস্ট আছে পাঁচটি।

৩২তম মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ হারান হাফিনিয়া। ডান দিক থেকে ইয়ামালের পাস দূরের পোস্টে ফাঁকায় পেয়ে কাছ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান তিনি। পরের মিনিটে ইয়ামালের প্রচেষ্টা রুখে দেন আলাভেস গোলরক্ষক।

৪১তম মিনিটে আর ভুল করেননি হাফিনিয়া। লোপেসের পাস বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।

এবারের লা লিগার সর্বোচ্চ স্কোরার এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের গোল হলো ১০ ম্যাচে ১৫টি। ১১ গোল নিয়ে দুই নম্বরে রেয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে চমৎকার গোলে স্কোরলাইন ৪-০ করেন ইয়ামাল। বক্সের ভেতর থেকে বাইরে তাকে পাস দেন জুয়াও কান্সেলো। বাঁ পায়ের নিখুঁত নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ১৯ বছর বয়সি তারকা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে আধিপত্য ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৫৬তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ হারান কারিম আডেইয়েমি। কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন চলতি মৌসুমে কাম্প নউয়ে আসা জার্মান উইঙ্গার।

৬২তম মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ। হাফিনিয়া ও কান্সেলোকে তুলে মাঠে নামান গাব্রিয়েল জেসুস ও আলেহান্দ্রো বাল্দেকে।

মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যেই দলের পঞ্চম গোলে অবদান রাখেন জেসুস। প্রতিপক্ষের ভুলে বল পেয়ে এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার পাস দেন ইয়ামালের উদ্দেশ্যে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা।

এবারের লিগে ১১ ম্যাচে ইয়ামালের গোল হলো ১০টি।

৭৪তম মিনিটে ইয়ামালের জায়গায় নামেন গর্ডন। এর সাত মিনিটের মধ্যেই জালের দেখা পান এই ইংলিশ উইঙ্গার। নিজেদের অর্ধ থেকে রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

৮৪তম মিনিটে আলাভেসের সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন মারিয়ানো দিয়াস। রদ্রি বল হারানোর পর আক্রমণে ওঠে সফরকারীরা। বার্সেলোনার এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে বক্সে ঢুকে জোরাল শটে বল জালে পাঠান দিয়াস।

১১ ম্যাচে পঞ্চম হারের স্বাদ পাওয়া আলাভেস ১২ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে আছে।