টেকনাফে সুপারির বাম্পার ফলন, যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে
“এই বছর ভারত থেকে সুপারি আমদানি না করলে আরো ভালো দাম পাওয়া যাবে।”
কক্সবাজারের টেকনাফে চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কৃষকরা সময়মতো সুপারি সংগ্রহ করতে পারছেন।
সঠিক সময়ে বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শের কারণে গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে আশা করছেন বাগান মালিকরা।
উৎপাদন ও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকদের আয়ও গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম জানান, টেকনাফ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে উপকূলীয় তিন ইউনিয়ন বাহারছড়া, টেকনাফ সদর ও সাবরাংয়ে সবচেয়ে বেশি সুপারির বাগান রয়েছে।
এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি সুপারি চাষ হয় সাবরাং ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নে ৩৭০ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে।
এ ছাড়া টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ৩৫০ হেক্টর, বাহারছড়া ইউনিয়নে ৩৪০ হেক্টর, হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর এবং হ্নীলা ইউনিয়নে ৪০ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে।
সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হচ্ছে।
সাবরাং বাজারে স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ী নুরুল হক বলেন, “টেকনাফের সুপারির খ্যাতি থাকার কারণে উত্তরাঞ্চলে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এখানকার সুপারি কিনে ট্রাক বোঝাই করে দোহাজারী, পটিয়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে।”
সুপারি বাগানের মালিক আলী আজগর বলেন, “এক পণ বড় সুপারি (এক লাট ৮০টি) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট আকারের সুপারির দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।
“গত বছরের তুলনায় এই বছর একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই বছর ভারত থেকে সুপারি আমদানি না করলে আরো ভালো দাম পাওয়া যাবে।”
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, টেকনাফে ১২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুমে এসব বাগান থেকে প্রায় ১০ হাজার ২৪০ টন সুপারি উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ২৪০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
“অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হতে পারে।”
মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সঠিক পরামর্শের কারণেই মূলত এবার সুপারির ফলন বেড়েছে বলে এ কৃষি কর্মকর্তা জানান।
তিনি বলছেন, “ফলন বাড়াতে সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই সম্পর্কে কৃষকদের মাঠপর্যায়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
“চলতি মৌসুম সুপারির উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকরা যাতে উৎপাদিত সুপারি ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়েও কৃষি বিভাগ কাজ করবে।”
