০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

সিত্রাং: বৃষ্টিকে ‘আশীর্বাদ’ বলছে যশোরের কৃষি বিভাগ

কৃষি বিভাগ বলছে, আমন নুয়ে পড়লেও ক্ষতি হবে না।

সিত্রাং: বৃষ্টিকে ‘আশীর্বাদ’ বলছে যশোরের কৃষি বিভাগ

নিজের আমন ক্ষেতে যশোরের একজন চাষি।

যশোর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Oct 2022, 11:19 AM

Updated : 26 Oct 2022, 11:19 AM

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে বৃষ্টিতে আমন ধানের উপকার হবে বলে মনে করছে যশোর কৃষি বিভাগ।

উপকূলের আমনের ক্ষেতের বড় ক্ষতি হলেও যশোরের জন্য একে ‘আশীর্বাদ’ বলছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক।

তিনি মঙ্গলবার বলেন, “ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর কারণে আমরা যে ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলাম তার কিছুই হয়নি। ঝড় মূলত উপকূলবর্তী এলাকায় ক্ষতি করেছে।”

“জেলায় এই সময়ে পুরো মাঠজুড়ে আমন ধান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ধান পাকতে শুরু করেছে। আবার কিছু ধানের থোড় বড় হচ্ছে। এ অবস্থায় পানির খুব প্রয়োজন ছিলো। সে কারণে একদিনের এ বৃষ্টিপাত আমাদের জন্য বড় ধরনের উপকার হয়ে দেখা দিয়েছে। এটাকে প্রকৃতির আশীর্বাদ বলা যায়।”

“ঝড়ের তোড়ে যে ধান নুয়ে পড়েছে, তার অধিকাংশই পাকা; ফলে এর কোনো ক্ষতি হবে না। কৃষক ঘরে তুলতে পারবেন।”

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য বলছে, সোমবার রাতের ঘূর্ণিঝড়ে ৬ হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং ১ হাজার মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

মোট ৪১৯টি ইউনিয়নে ঝড় ক্ষতির চিহ্ন রেখে গেছে। উড়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার ঘর। কিছু স্থানে সড়ক ভেঙেছে, বাঁধও ভেঙেছে।

রোববার ভোর রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যশোরে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সঙ্গত কারণেই এ জেলার চাষি ও কৃষি বিভাগের লোকজন মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন। টানা এ বৃষ্টির কারণে এ অঞ্চলের সদ্য রোপণকৃত শীতের সবজি, আমন ধানের ক্ষতির আশঙ্কা করছিল যশোর কৃষি বিভাগ।

তবে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে যশোরে থেমে যায় ঝড় ও বৃষ্টি। মাঝে মাঝে মৃদু ঝড়ো হাওয়া ও ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েছে। রাতে আবহাওয়ার অবস্থা ক্রমশ ভাল হতে হতে সকালে দেখা মেলে রোদের। ফলে যেসব ধানক্ষেতে পানি জমে গিয়েছিলো তা সহজে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যশোর অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। আর এক লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।

যশোরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক আরও বলেন, “এখন রবি ফসল চাষের প্রস্তুতি চলছে। ঠিক সেই সময়ে এ বৃষ্টিপাত ফসলের ক্ষেতের উর্বরতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি যশোরের যে শীতের সবজি রয়েছে তার জন্য বড় উপকার হয়েছে এ বৃষ্টিপাতে।”

“তবে সহসা আবার যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে রবি ফসলসহ অন্যান্য ফসলের জন্য ক্ষতি হয়ে দেখা দিতে পারে।”

মঙ্গলবার সকালে যশোর সদরের নোঙরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সবজি ক্ষেতে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন চাষিরা।

সবজি চাষি আশরাফ আলী বলেন, “আগের ঝড়গুলোতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হলেও এবারকার ঝড়ে কোনো ক্ষতি হয়নি। জমিতে পানি জমে গেলেও সেগুলো আইল কেটে সরানো সম্ভব হয়েছে।”

তিনি বলেন, “একদিন বৃষ্টি হওয়ায় আমরা অনেকটা ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছি।”

সবজি চাষি গোলাম হোসেন বলেন, “বৃষ্টির কারণে বাঁধাকপি ক্ষেতের ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলাম। তবে (মঙ্গলবার) সকাল থেকে আবহাওয়া ভালো থাকায় সেই ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছি। সামনে আর বৃষ্টি না হলে সব ধরনের সবজি চাষের বড় উপকার হবে।”

পাশের ইছালী মাঠে রাস্তার পাশে দেখা যায়, কিছু ক্ষেতের আধাপাকা আমন ধান নুইয়ে পড়েছে। ওইসব ক্ষেতের আইল কেটে পানি অপসারণের চেষ্টা করছেন চাষিরা।

হাদিউজ্জামান মিলন নামে একজন চাষি বলেন, বৃষ্টিতে ক্ষেতের ধান মাটিতে পড়ে গেছে। তবে বেশি বাতাস না হওয়ায় ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

সামনে আর বৃষ্টিপাত না হলে এসব ধান সহজেই ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন।

আরও পড়ুন:

পুরনো খবর:

ঝড় গেছে, এবার ক্ষতির হিসাব