উদ্যোগ সঠিক হলে উঠে আসবেন অনেকেই: সাফজয়ী মণিকা

ফুটবলারদের নিয়ে ছাদ খোলা জীপে করা বর্ণিল শোভাযাত্রায় অংশ নেয় শত শত মোটর সাইকেল।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Sept 2022, 09:48 AM
Updated : 30 Sept 2022, 09:48 AM

নিয়মিত প্র্যাকটিস করার উদ্যোগ নেওয়া হলে জেলা থেকে আরও অনেক ফুটবলার উঠে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়িতে ফিরে বর্ণিল সংবর্ধণায় উচ্ছ্বসিত সাফ জয়ী ফুটবলার মণিকা চাকমা।

শুক্রবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী তিন নারী ফুটবলারকে বরণ করে নিতে খাগড়াছড়ি জেলা স্টেডিয়ামে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়েজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে সাফজয়ের ১২ দিন পর নিজ জেলা খাগড়াছড়িতে ফিরেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের তিন ফুটবলার মণিকা চাকমা, আনুচিং মগিনী, আনাই মগিনী এবং সহকারী কোচ তৃষ্ণা চাকমা।

তাদের বরণে ছিল শহর জুড়ে ছিল বর্ণিল প্রস্তুতি। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলার প্রবেশমুখ ঠাকুরছড়া এলাকায় ফুলেল ভালোবাসায় বরণ করে নেওয়া হয় তাদের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমাসহ সংস্থার কর্মকর্তারা।

পরে নারী তারকা ফুটবলারদের নিয়ে ছাদ খোলা জিপে করে শোভাযাত্রা করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেয় শত শত মোটরসাইকেল। ঠাকুরছড়া থেকে শুরু হওয়া বর্ণিল শোভাযাত্রা প্রদক্ষিণ করে পুরো শহর। এ সময় সাধারণ মানুষ কৃতি ফুটবলারদের স্বাগত জানান।

শোভাযাত্রা শেষে বেলা ১১টায় ফুটবলাররা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছালে সেখানে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় ফুটবলারদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা ছাড়াও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

নিজের জেলায় এমন সংবর্ধনা পেয়ে উচ্ছ্বসিত নারী ফুটবলাররা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মনিকা চাকমা বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে এখানে আসতে পেরেছি। যদি মেয়েদের জন্য নিয়মিত খেলাধুলার প্র্যাকটিস করার উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে আরো অনেকেই উঠে আসবে।

“অনেকের বাড়ি দূরে, স্টেডিয়ামে এসে প্রতিদিন খেলাধুলা করার মতো সার্মথ্য থাকে না। অনেক খেলোয়াড় গাড়ি ভাড়ার অভাবে প্রতিদিন যাতায়াত করতে পারে না।

“এখানে যদি খেলাধুলার জন্য আবাসিক হোস্টেলের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত ফুটবল খেলে যেতে পারবেন।”

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সহকারী কোচ তৃষ্ণা চাকমা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের মেয়ে ফুটবলারদের এ পর্যন্ত আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এখানে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা টাকার অভাবে যাতায়াত করতে পারে না বলে প্র্যাকটিস করতে পারে না।”

দেশের মানুষ তাদেরকে যে ভালোবাসা দিয়েছে তা যেন সব সময় অটুট থাকে এমন প্রত্যাশাও করেন এই সহকারী কোচ।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা।

তিনি বলেন, “খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে প্রচুর সম্ভাবনাময় নারী ফুটবলার রয়েছে। তাদেরকে উঠিয়ে আনতে হবে। এজন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে তাদের কাজের পরিধি বাড়াতে হবে।”

পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে পাহাড়ি এলাকা থেকে আরও নারী ফুটবলার উঠে আসবে বলে মনে করেন এই সংসদ সদস্য।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার নাইমুল হক, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শানে আলম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমা।

সংবর্ধনা শেষে দীর্ঘদিন পর নিজেদের বাড়িতে পরিবারের সান্নিধ্যে ফেরেন ফুটবলাররা ও সহকারী কোচ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক