১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘূর্ণিঝড় মিধিলি: শরীয়তপুরে এখনও ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

ছয় উপজেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে; তাতে উঠতি আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Nov 2023, 05:33 PM

Updated : 18 Nov 2023, 05:33 PM

ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে শরীয়তপুরে এখনও ছয় উপজেলায় ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। এ ছাড়া ঝড়ে আমন ফসলের ক্ষতিও হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগ।  

শনিবার সকালে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “ঝড়ের কারণে শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঝড়ে বিভিন্ন জায়গায় গাছ ও গাছের ডাল পরে বিদ্যুতের তার বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।

“শনিবার মেরামতের জন্য কাজ শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এখনও প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

রাতে বা রোববার সকালে সবাইকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান পল্লী বিদ্যুতের জিএম।

দুই দিনের টানা বর্ষণ ও ঝড়ের কারণে জাজিরা, নড়িয়া, গোসাইরহাট, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও সদর উপজেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। তাতে উঠতি আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

জাজিরায় পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, কালজিরা, আলু, সরিষা, খেসারি, বেগুন, মরিচসহ শাকসবজির বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 

নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের দিগম্বরপট্টি এলাকার আলী কাজী বলেন, “দুদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, মোবাইল কিছুই চালাতে পারছি না। ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংসও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

জাজিরা উপজেলার লাউখলা এলাকার কৃষক রমিজ আলী, মরণ মিয়া ও খোকন পেদা বলেন, দুদিনের টানা বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে তাদের আমন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদর উপজেলা কর্মকর্তা ওলি হাওলাদার বলেন, “মিধিলির আঘাতে পেঁয়াজ, রসুনসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাচ্ছি। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও বলা সম্ভব হচ্ছে না।”

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রবীআহ নুর আহাম্মেদ বলেন, “আমাদের ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে একটু সময় লাগবে।”