১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতে পাওয়া লেমুর গাজীপুরের পার্কের কিনা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা

২০২৫ সালের ২২ মার্চ রাতে পার্কের বেষ্টনী কেটে তিনটি লেমুর চুরি হয়ে যায়।

ভারতে পাওয়া লেমুর গাজীপুরের পার্কের কিনা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা
বাচ্চাসহ আফ্রিকান প্রাণী লেমুর।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 10:15 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

ভারতের গুজরাটের একটি পার্কে পাওয়া বিপন্নপ্রায় প্রাণী লেমুর গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া কিনা তা জানতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হতে পার্কে থাকা লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে। গুজরাটের পার্কের লেমুর ও গাজীপুরের সাফারি পার্কের লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল যদি এক হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে সেগুলো এখান থেকে চুরি যাওয়া। 

এরই মধ্যে, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা একটি লেমুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে মার্চ মাসে ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটি তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিকে দেওয়া হবে।  

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৮ সালে বিমানবন্দর দিয়ে পাচারের সময় একটি পুরুষ ও একটি মাদি লেমুর উদ্ধার করে সাফারি পার্কে রাখা হয়। সেখানে তারা দুটি বাচ্চা দেয় এবং পরবর্তীতে একটি লেমুর মারা যায়। 

২০২৫ সালের ২২ মার্চ রাতে পার্কের বেষ্টনী কেটে বাকি তিনটি লেমুর চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাজধানীর শ্যামবাজার থেকে একটি উদ্ধার করা হয়। বাকি দুটির খোঁজ মেলেনি। 

সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে, সীমান্ত দিয়ে পাচার করে একাধিক হাত ঘুরে প্রায় ৪৮ লাখ টাকায় ভারতের বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র ‘বনতারা’য় বিক্রি করা হয়েছে দুটি রিংটেইল লেমুর।

এখন ‘বনতারা’ কর্তৃপক্ষ প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে একই বংশের বাংলাদেশের কাছে লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল চেয়েছে। কিন্তু গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল ছিল না। তাই ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, “ল্যাব রিপোর্টের সঙ্গে ভারতের গুজরাটে বনতারায় থাকা লেমুরের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া গেলে প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে।”

তিনি বলেন, “গাজীপুর সাফারি পার্কের দুটি লেমুর ভারতের গুজরাটে পাওয়ার বিষয়টি পত্রপত্রিকায় সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।”

এ বিষয়ে ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, “সাফারি পার্কে থাকা লেমুর এবং ভারতে উদ্ধার হওয়া লেমুর দুটি একই পরিবারভুক্ত। তাই তাদের ডিএনএ রিপোর্ট নিশ্চিতভাবেই মিলবে। ল্যাবের চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্ল্যা পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাবও রয়েছে। ফলে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা কঠিন কোনো কাজ নয়। কিন্তু এর প্রয়োজনীয়তা হয়ত এর আগে এভাবে অনুভূত হয়নি। বনবিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও ছিল না।”

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী চোরাচালান ও পাচারের ঘটনা শনাক্ত এবং পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।