১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘মবের’ অপসংস্কৃতিকে শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তের দুর্গম এলাকায় থার্মাল ও নাইট-মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহারের কথা বলেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

‘মবের’ অপসংস্কৃতিকে শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকায় বিজিবির সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2026, 03:57 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:56 PM

‘মবের’ অপসংস্কৃতিকে শক্তভাবে মোকাবিলা করার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “মবের কথা যা বললেন সেটা সাধারণ আইনের মধ্যেই আছে, তার জন্য আলাদা কোনও আইনের প্রয়োজন নেই। 

“আমরা খুব সজাগ আছি, সচেতন আছি। বাংলাদেশের মবের যে অপসংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাকে আমরা শক্তভাবে মোকাবিলা করব।”

এর আগে মন্ত্রী নগরের আখালিয়া এলাকায় সিলেট বিজিবির সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা খুব আধুনিক আইন নিয়ে এসেছি। সেটা এই সমস্ত মামলাগুলো সম্ভবত পুরাতন আইনের করা। সেই আইনে ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা ছিল না। এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে মামলার সংখ্যা অধিক। 

“যেমন ঢাকায় ৮০ হাজার মাদকদ্রব্যের মামলা আছে, কক্সবাজারে আছে ২০ হাজারের ওপর এবং চট্টগ্রামে আছে ৩০ হাজারের ওপর। আমাদের জনবল তো ছিল না, ইনভেস্টিগেশন করার মতো তো সক্ষমতা ছিল না, ট্রাইব্যুনালের কোনো বিধান ছিল না এবং ল্যাবরেটরির কোনো তেমন সংস্থান ছিল না দু-একটা জেলা বাদে।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে এই আইনের মধ্য দিয়ে খুব শক্তিশালী একটি অধিদপ্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচাসহ অন্যান্য সবকিছু আমরা যাতে অ্যাড্রেস করতে পারি এবং উদ্ধার ও মামলা করতে পারি, সেজন্য প্রত্যেকটা জেলায় মালখানা, হাজতখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ডগ স্কোয়াড রেস করব, সেটাও আইনে রাখা হয়েছে।”

মাদক চোরাকারবারিরা অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত থাকে, বিপরীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো হাতিয়ার ছিল না জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “অত্যাধুনিক হাতিয়ারের ব্যবস্থা আমরা এখানে রেখেছি, তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য চোরাচালান, অপব্যবহার, ব্যবসায়ী ইত্যাদির ক্ষেত্রে অপরাধ চিহ্নিত করে ক্ষেত্রমতে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মামলার আধিক্যের কারণে অপরাধীরা সুযোগ পেয়ে গেছে, হতে পারে। আইনি ব্যবস্থায় আইনি কাঠামো আমরা খুব শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলছি। পরে জনবল এবং প্রযুক্তিগত সমস্ত সহায়তা আমাদের বাহিনীকে দেওয়া হবে। আশা করি এগুলো নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

সীমান্ত নজরদারিতে থার্মাল ও নাইট-মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহার হবে

সীমান্তের দুর্গম ও জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইট-মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হবে।

বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজিবির এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ একটি অনন্য ঘটনা। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।

সীমান্তে নজরদারি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা সম্ভব নয় অথবা খুবই কঠিন, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট মিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। 

“এর মাধ্যমে সীমান্তের অপর পারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান-মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’’

বিজিবির জন্য নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরি ও অ্যাসেম্বল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সেটা আমাদের জন্য একটা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

“ড্রোন ও ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে।”

বেলা সাড়ে ৩টায় সিলেট সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সিলেট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন মন্ত্রী। 

পরে বিকাল ৪টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেবেন সালাহউদ্দিন আহমদ।